দিল্লিতে মেট্রো ও ট্রেন পরিষেবা বন্ধ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা, রবিবার বিশেষ শুনানিতে কী হবে?

দিল্লিতে বিক্ষোভের জেরে গণপরিবহণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালত অবমাননার আবেদন। ৯ অক্টোবরের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে রবিবার বিশেষ শুনানি করবে সুপ্রিম কোর্ট।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লিতে বিক্ষোভের জেরে মেট্রো ও ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে দায়ের হওয়া আদালত অবমাননার মামলার শুনানি হবে রবিবার, ১১ অক্টোবর। শনিবার, ১০ অক্টোবর, এই মামলায় বিশেষ শুনানির কথা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)। আবেদনকারীর অভিযোগ, ৯ অক্টোবর আদালত গণপরিবহণ পুরোপুরি বন্ধ না করার যে নির্দেশ দিয়েছিল, তা অমান্য করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আর্জি জানানো হয়েছে।

মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অধিকার এবং আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার প্রশ্নও উঠেছে। তবে কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করেছে কি না, তা এখনও প্রমাণিত নয়। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্যই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন আবেদনকারী।

শনিবারের বিক্ষোভের আগে দিল্লি প্রশাসন নিরাপত্তার কারণে একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর আগে বিক্ষোভের দিন রাজধানীতে ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

৯ অক্টোবরের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের (Surya Kant) নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছিল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে, কিন্তু মেট্রো ও ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। আদালত পরিষেবা নিয়ন্ত্রিতভাবে চালানোর পাশাপাশি যাত্রীদের অসুবিধা এড়াতে আগাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের উপরেও জোর দিয়েছিল।

এই নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ তুলে আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী (Shailendra Mani Tripathi) আদালত অবমাননার আবেদন করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আবেদনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব, দিল্লির পুলিশ কমিশনার এবং দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনের (DMRC) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আর্জি জানানো হয়েছে। তবে আবেদনকারীর অভিযোগ এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এক বিষয় নয়।

এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party বা CJP)। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। শনিবার একাধিক রাজনৈতিক নেতা-সহ বহু মানুষকে আটক করার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

রবিবারের শুনানিতে আদালত আবেদনকারীর অভিযোগ কীভাবে বিবেচনা করে, সেটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। গণপরিবহণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত আদালতের নির্দেশের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল কি না, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার প্রক্রিয়া শুরু করার মতো ভিত্তি রয়েছে কি না, তার উত্তর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের উপর নির্ভর করবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন