দিল্লি হাটের পথে মিছিল আটকে দিল পুলিশ, নেহা বোরা ও যোগেন্দ্র যাদব-সহ আটক একাধিক বিক্ষোভকারী

CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-সহ তিন নেতা আটক হওয়ার পর দিল্লি হাটের দিকে মিছিল নিয়ে যান নেহা বোরা ও যোগেন্দ্র যাদব। পথে তাঁদের আটক করে পুলিশ, বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা জারি থাকে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি না মেলায় বিকল্প জায়গায় মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে আটক হলেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (All India Students’ Association বা AISA) নেত্রী নেহা বোরা এবং সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব (Yogendra Yadav)। শনিবার, ১০ অক্টোবর, দিল্লি হাট-আইএনএ (Dilli Haat-INA) এলাকার দিকে মিছিল এগোনোর সময় তাঁদের আটক করা হয় বলে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর লাইভ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। কক্‌রোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party বা CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-সহ তিন নেতাকে বিমানবন্দর থেকে আটক করার পরও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন আন্দোলনকারীরা।

নেহা বোরা সমাজমাধ্যমে ঘোষণা করেছিলেন, সেদিন দিল্লি হাটই হবে তাঁদের প্রতিবাদের জায়গা। যন্তর মন্তরে জমায়েতের অনুমতি না পাওয়ায় বিকল্প স্থানে মিছিলের এই ডাক দেওয়া হয়। সেই কর্মসূচিতে যোগ দেন যোগেন্দ্র যাদব-সহ একাধিক আন্দোলনকারী। কিন্তু দিল্লি হাটের দিকে এগোনোর সময়ই পুলিশ তাঁদের আটক করে।

এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই দিল্লি বিমানবন্দরে আটক করা হয় CJP-র তিন নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে। তাঁদের বিমান থেকে নামার পরই পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে CJP-র তরফে একটি ভিডিও প্রকাশ করে জানানো হয়, দলের সংগঠন-দায়িত্বে থাকা অজিঙ্ক্য শিন্ডে যন্তর মন্তরের কর্মসূচির নেতৃত্ব দেবেন। অর্থাৎ, শীর্ষ নেতৃত্বকে আটক করার পরও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে দলটি।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) এবং ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্তির ফর্ম ৬ (Form 6) ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে CJP ও আন্দোলনে যোগ দেওয়া সংগঠনগুলি। তবে এই অভিযোগগুলি আন্দোলনকারীদের বক্তব্য; এগুলিকে প্রমাণিত অনিয়ম হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।

দিল্লি পুলিশ আগে থেকেই যন্তর মন্তরের কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। পুলিশের বক্তব্য, নিরাপত্তার উদ্বেগ, পর্যাপ্ত আগাম নোটিস না পাওয়া এবং আগের বিক্ষোভে নির্ধারিত শর্ত ভাঙার কারণে অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিক্ষোভের জায়গায় পৌঁছনোর আগেই তাঁদের আটক করে প্রতিবাদ করার অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।

বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীর একাধিক এলাকায় কড়া নিরাপত্তা, যান নিয়ন্ত্রণ এবং মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও প্রস্থানের উপর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর লাইভ আপডেট অনুযায়ী, দুপুরের আগেই দিল্লির বিভিন্ন জায়গা থেকে বহু মানুষকে আটক করা হয়। এর জেরে শুধু আন্দোলনকারীরাই নন, সাধারণ যাত্রীদেরও যাতায়াতে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে।

নেহা বোরা ও যোগেন্দ্র যাদবের আটক হওয়ার ঘটনা দেখাচ্ছে, নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলে জমায়েত আটকে দেওয়া হলেও আন্দোলনকারীরা বিকল্প জায়গায় কর্মসূচি চালানোর চেষ্টা করছেন। তবে তাঁদের কতক্ষণ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কি না, তা প্রকাশের আগে সর্বশেষ পুলিশি আপডেট থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন