রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। নির্বাচনী ব্যবস্থায় অনিয়ম এবং ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA bloc)। বৈঠকের পর ফেসবুক পোস্টে রাহুলের দাবি, তাঁদের অভিযোগ রাষ্ট্রপতি খারিজ করেননি। বরং প্রমাণ পেশ করতে বলেছেন তিনি। রাহুলের ঘোষণা, বিরোধী জোট রাষ্ট্রপতির কাছে ‘প্রমাণের পাহাড়’ জমা দেবে।
শুক্রবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পর নিজের ফেসবুক পোস্টে রাহুল গান্ধী লেখেন, “আমি এইমাত্র ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে একটি অবিশ্বাস্য বৈঠক করে এলাম।” তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) বিরুদ্ধে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়ার অভিযোগ জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন তাঁরা। সেই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগের দাবিও জানানো হয়েছে।
বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাহুলের দাবি, ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ রাষ্ট্রপতি অস্বীকার করেননি। বরং অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ চেয়েছেন তিনি। কংগ্রেস নেতার কথায়, “আমরা প্রমাণের পাহাড় নিয়ে আসব।” তাঁর দাবি, ইন্ডিয়া জোটের কাছে থাকা প্রতিটি প্রমাণ রাষ্ট্রপতির সামনে পেশ করতে তাঁরা প্রস্তুত।
রাহুল আরও জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। সেই আশ্বাসকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। তবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং রাহুল গান্ধীর বর্ণনাকে আলাদা করে দেখা জরুরি। ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ রাষ্ট্রপতি খারিজ করেননি—এটি রাহুলের নিজের বক্তব্য; রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক মন্তব্য হিসেবে তা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
বিরোধী জোটের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হয়েছেন বিরোধী নেতারা। স্মারকলিপিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তোলার পাশাপাশি নির্বাচনী ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের আপত্তির কথা জানানো হয়েছে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াও বিরোধীদের আপত্তির অন্যতম বিষয়। বিরোধী নেতাদের আশঙ্কা, ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার যথাযথ নিষ্পত্তি প্রয়োজন। এই বিষয়গুলি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বিরোধী শিবির।
বৈঠকের পর রাহুল গান্ধীর ফেসবুক পোস্টে আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আন্দোলন থামাতে চাইছে না বিরোধী জোট। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রমাণ পেশের পাশাপাশি, বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা। ফলে এখন নজর থাকবে, বিরোধীরা কী ধরনের নথি ও তথ্যপ্রমাণ সামনে আনেন এবং তাঁদের অভিযোগের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি ভবন বা নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসে কি না।



