পশ্চিমবঙ্গের দুই বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনের ভোটগণনায় প্রাথমিকভাবে এগিয়ে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা। শুক্রবার সকাল থেকে গণনা শুরু হতেই দুই কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত মিলেছে। উপনির্বাচনের গণনা অনুযায়ী, নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের পিছনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কংগ্রেস। অন্যদিকে, রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় স্থান নিয়ে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের মধ্যে অবস্থান বদলাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই বিধানসভা কেন্দ্রেই মোট ১৫ রাউন্ড ভোটগণনা হওয়ার কথা। ফলে প্রথম দিকের ফলাফল থেকে চূড়ান্ত জয়-পরাজয়ের হিসাব করা সম্ভব নয়। তবে গণনার শুরুতে বিজেপির এগিয়ে থাকা দুই কেন্দ্রেই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগণনায় প্রথম থেকেই উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। প্রাথমিক গণনার তথ্য অনুযায়ী, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে কংগ্রেস।
নন্দীগ্রামে তৃতীয় স্থানে বাম প্রার্থী এবং চতুর্থ স্থানে সিপিআই প্রার্থী রয়েছেন বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের নির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি।
প্রথম রাউন্ডের গণনা শেষ হওয়ার পরেও বিজেপির এগিয়ে থাকার খবর মিলেছে। যদিও এখনও ১৫ রাউন্ডের সম্পূর্ণ গণনা শেষ হয়নি। তাই এই মুহূর্তে কোনও প্রার্থীর জয় নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রেও প্রথম রাউন্ডের গণনায় এগিয়ে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। পোস্টাল ব্যালট গণনার পর তাঁর ব্যবধান দুই হাজার ভোট ছাড়িয়েছে বলে খবর।
শুক্রবার সকাল ৯টা ২৭ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া অসরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রথম রাউন্ডের শেষে বিজেপি প্রার্থীর এগিয়ে থাকার ব্যবধান সাত হাজার ভোটেরও বেশি হতে পারে। তবে এই ব্যবধান নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে এখনও নিশ্চিত নয়।
রেজিনগরে দ্বিতীয় স্থান নিয়েই তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তা। প্রাথমিক গণনার বিভিন্ন পর্যায়ে কখনও হুমায়ুনের আম জনতা উন্নয়ন পার্টি, কখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস, আবার কখনও কংগ্রেস দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে।
ফলে রেজিনগরে বিজেপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শেষ পর্যন্ত কোন দল হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরবর্তী রাউন্ডগুলির ভোটগণনা এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।
ভোটগণনার পাশাপাশি রেজিনগরের গণনাকেন্দ্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের উপস্থিতি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ৯টা ২৪ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রেজিনগরের গণনাকেন্দ্রে হুমায়ুনের আম জনতা উন্নয়ন পার্টি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও এজেন্টকে দেখা যায়নি।
তবে সেখানে কংগ্রেস, বাম, ঋতব্রতদের গণতান্ত্রিক তৃণমূল এবং বিজেপির এজেন্টরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, নন্দীগ্রামের গণনাকেন্দ্রে বিজেপি, বাম, কংগ্রেস এবং গণতান্ত্রিক তৃণমূলের এজেন্টদের উপস্থিতির খবর পাওয়া গিয়েছে।
এজেন্টদের অনুপস্থিতির কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দলগুলির কোনও ব্যাখ্যা এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
রেজিনগর উপনির্বাচনকে ঘিরে ভোটগ্রহণের সময় থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার বিভিন্ন বুথে প্রবেশ করে ছাপ্পা ভোট দিয়েছেন।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়েছিল কংগ্রেস। পাশাপাশি শুক্রবারের নির্ধারিত ভোটগণনা স্থগিত রাখার আবেদনও জানানো হয়েছিল।
যদিও অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। তাঁর বক্তব্য, ইভিএমে প্রযুক্তিগত সমস্যার খবর পেয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট বুথে গিয়েছিলেন। ছাপ্পা ভোট দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেই দাবি করেছেন তিনি।
কংগ্রেসের অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। নির্বাচন কমিশন অভিযোগের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কি না, সেই তথ্যও এখনও পাওয়া যায়নি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রেই মোট ১৫ রাউন্ড ভোটগণনা হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রথম রাউন্ডের পর বিজেপি প্রার্থীদের এগিয়ে থাকা স্পষ্ট হলেও পরবর্তী রাউন্ডে ভোটের ব্যবধান পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে রেজিনগরে দ্বিতীয় স্থানের লড়াই এখনও অনিশ্চিত।
নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রাথমিকভাবে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, রেজিনগরে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি, তৃণমূল এবং কংগ্রেসের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানের প্রতিযোগিতা চলছে।
শুক্রবার সকাল ৯টা ২৭ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, দুই কেন্দ্রেই বিজেপি এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত ফলাফল জানতে বাকি রাউন্ডগুলির গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।



