সোমবার সকালেই কলকাতায় ফের তল্লাশি অভিযান কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। বড়বাজার ও পোস্তা এলাকায় একাধিক ঠিকানায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর আধিকারিকরা পৌঁছেছেন বলে খবর। ভুবনেশ্বরের একটি ব্যাঙ্ক প্রতারণা মামলার আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।
তবে ₹১,১০৯ কোটি টাকার যে ব্যাঙ্ক প্রতারণার মামলার কথা সামনে আসছে, সেটি Gupta Power Infrastructure Ltd-এর বিরুদ্ধে CBI-র তদন্তাধীন মামলা। জুলাইয়ে CBI চার রাজ্যের ছয়টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল। সংস্থাটির বিরুদ্ধে Canara Bank থেকে নেওয়া ঋণের অর্থ সরিয়ে দেওয়া, আর্থিক নথিতে কারচুপি এবং ঋণ অ্যাকাউন্ট ‘evergreening’-এর মতো অভিযোগ তদন্ত করছে CBI।
CBI-এর বক্তব্য অনুযায়ী, Gupta Power Infrastructure Ltd-এর বিরুদ্ধে Canara Bank-এর প্রায় ₹১,১০৯ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে। সংস্থাটি ঋণ পাওয়ার জন্য স্টকের মূল্য ও বাণিজ্যিক পাওনার অঙ্ক বাড়িয়ে দেখিয়েছিল এবং আর্থিক বিবরণীতে কারচুপি করেছিল বলে অভিযোগ তদন্তকারী সংস্থার।
এছাড়াও ঋণের টাকা অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া এবং পুরনো ঋণ সামলাতে নতুন ঋণের ব্যবস্থা করে অ্যাকাউন্টের প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল করার অভিযোগও রয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই CBI তদন্ত শুরু করে এবং জুলাইয়ে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায়।
CBI-এর সেই অভিযানে ভুবনেশ্বরে সংস্থার চার ডিরেক্টরের বাড়ি, কলকাতায় কোম্পানির রেজিস্টার্ড অফিস এবং ওড়িশা, তামিলনাড়ু ও উত্তরাখণ্ডের তিনটি কারখানায় তল্লাশি চালানো হয়েছিল। অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করার কথাও জানিয়েছিল সংস্থাটি।
এদিকে কলকাতায় গত কয়েক সপ্তাহে ED-এর একাধিক অভিযান হয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর দুর্গাপুজোর ‘Preview Shows’ সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের তদন্তে MassArt Society-র সঙ্গে যুক্ত ১৫টি ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়েছিল ED। ওই তদন্তে আর্থিক লেনদেন ও অর্থের গতিপথ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছিল।
এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও ₹২৯০ কোটি টাকার কথিত ব্যাঙ্ক প্রতারণা ও আর্থিক তছরুপের একটি মামলায় পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের একাধিক জায়গায় ED অভিযান চালিয়েছিল। ওই মামলায় একটি ৬৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির জন্য নেওয়া ব্যাঙ্ক ঋণের টাকা ভুয়ো সংস্থার অ্যাকাউন্টে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগের তদন্ত চলছে।
ফলে কলকাতায় পরপর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযান ঘিরে নজর রয়েছে। বড়বাজার-পোস্তার সোমবারের তল্লাশিতে ঠিক কোন নথি বা আর্থিক লেনদেনের সূত্র সামনে আসে, এবং এর সঙ্গে ₹১,১০৯ কোটি টাকার Gupta Power মামলার সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্ত এগোলেই স্পষ্ট হবে।
এখনও পর্যন্ত তল্লাশি থেকে কোনও নির্দিষ্ট সম্পদ বাজেয়াপ্ত, গ্রেফতার বা নতুন তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে—এমন তথ্য নিশ্চিত ভাবে পাওয়া যায়নি। তদন্তকারী সংস্থার পরবর্তী বিবৃতির দিকেই নজর থাকবে।



