মহালয়ার আগেই পশ্চিমবঙ্গে বর্ষার বিদায় প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৮ থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে রাজ্য থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাহার শুরু হতে পারে। ফলে দুর্গাপুজোর আগে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট কমার সম্ভাবনাই বেশি। তবে পুজোর প্রতিটি দিন একেবারে বৃষ্টিহীন থাকবে কি না, এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। [দুর্গাপুজো ২০২৬ কবে? জানুন সঠিক দিনক্ষণ, সম্পূর্ণ সূচি ও দেবীর আগমন-গমন]
বর্তমানে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে বিচ্ছিন্ন বৃষ্টি হলেও বড় ধরনের দুর্যোগের কোনও ইঙ্গিত নেই। ৪ অক্টোবরের আঞ্চলিক সতর্কতা অনুযায়ী, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ৪ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত কোনও সতর্কতা জারি করেনি আলিপুর আবহাওয়া দফতর। অর্থাৎ ভারী বৃষ্টি বা বড় কোনও আবহাওয়া-জনিত বিপদের আশঙ্কা আপাতত নেই।
তবে বর্ষা বিদায়ের মুখে স্থানীয় ভাবে হঠাৎ বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে রোদ-মেঘের ফাঁকে অল্প সময়ের জন্য বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে উপকূল ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে আগামী কয়েক দিনে বিচ্ছিন্ন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। [মহালয়া ২০২৬ কবে? জানুন তারিখ, সময়, তাৎপর্য ও নিয়মকানুন]
কলকাতার ক্ষেত্রেও ছবিটা অনেকটা একই। রবিবার শহরে হালকা বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা থাকলেও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা নেই। আর্দ্রতা বেশি থাকায় বৃষ্টি কমলেও ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি থাকতে পারে। রবিবার সকালে আলিপুরে তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৯০ শতাংশ।
দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় অবশ্য পুরোপুরি বৃষ্টি বন্ধ হচ্ছে না। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে বিচ্ছিন্ন ভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে আগামী সপ্তাহে দক্ষিণবঙ্গের সামগ্রিক বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির প্রবণতা ধীরে ধীরে কমার সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ির মতো কয়েকটি জেলায় বিচ্ছিন্ন বৃষ্টি হতে পারে। তবে সেখানেও আপাতত ভারী বৃষ্টির কোনও সতর্কতা নেই।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি আসতে পারে বর্ষার গতিপথে। আবহাওয়া দফতরের দুই সপ্তাহের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ৮ থেকে ১৫ অক্টোবর দক্ষিণবঙ্গে মূলত শুষ্ক আবহাওয়া থাকতে পারে। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে কোনও কোনও দিন বিচ্ছিন্ন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা থাকলেও সামগ্রিক ভাবে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গেই বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের নিচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এবার ১০ অক্টোবর মহালয়া। ফলে মহালয়ার আগেই বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্ষা সম্পূর্ণ বিদায় নিয়েছে বলে ঘোষণা করার আগে কয়েকটি আবহাওয়াগত শর্ত পরপর পূরণ হতে হয়। বৃষ্টির ধারাবাহিকতা কমে যাওয়া, বাতাসের আর্দ্রতা কমা এবং বাতাসের গতিপথে পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলি পর্যবেক্ষণ করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তাই আপাতত পুজোর আগে স্বস্তির ইঙ্গিত মিললেও “পুজো একেবারে বৃষ্টিহীন”—এমন নিশ্চিত পূর্বাভাস দেওয়ার সময় এখনও আসেনি। আবহাওয়া দফতরের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, বর্ষা বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির দাপট কমার সম্ভাবনা প্রবল। আগামী কয়েক দিনের পূর্বাভাসেই দুর্গাপুজোর দিনগুলির আবহাওয়ার ছবিটা আরও স্পষ্ট হবে।



