পুজোর আগে আপাতত স্বস্তির খবর বাংলার আবহাওয়ায়। আগামী সোমবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। তবে বৃহস্পতি ও শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা বাড়তে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বাড়তে পারে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ দিনগুলিতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আপাতত নেই। আজ বুধবারও দক্ষিণবঙ্গের কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে বৃষ্টির প্রবণতা কমবে। আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রারও বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে সেখানেও মূলত হালকা এবং বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে দু-এক জায়গায় সামান্য বৃষ্টি হতে পারে।
শুক্রবার বৃষ্টির সম্ভাবনা আরও কয়েকটি জেলায় ছড়াতে পারে। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুরের পাশাপাশি নদিয়া ও মুর্শিদাবাদেও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এই বৃষ্টি ভারী হওয়ার আশঙ্কা নেই। শুক্রবারের পর থেকে সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা ফের কমে যাবে। কোনও কোনও জেলার দু-এক জায়গায় সামান্য বৃষ্টি হলেও সামগ্রিক আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে শুষ্কই থাকবে।
বৃষ্টির সম্ভাবনা কমলেও জলীয় বাষ্পের কারণে অস্বস্তি বাড়তে পারে। বিশেষ করে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় গরমের অনুভূতি তাপমাত্রার তুলনায় বেশি হতে পারে।
বুধবার কলকাতায় আকাশ মূলত আংশিক মেঘলা থাকবে। ভারী বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি হতে পারে, যদিও সেই সম্ভাবনাও ধীরে ধীরে কমবে।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকায় দু-এক পশলা হালকা বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এই বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী বা ভারী হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
অন্যদিকে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকার কারণে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বাড়তে পারে। অর্থাৎ বৃষ্টি কমলেও গুমোট ভাব থেকে পুরোপুরি রেহাই মিলবে না।
উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রেও আপাতত বড় কোনও বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়ি—এই পাঁচ জেলায় বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি হতে পারে।
আজ বুধবারও এই জেলাগুলির দু-এক জায়গায় সামান্য বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভারী বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা আপাতত নেই। সোমবার থেকে উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির সম্ভাবনা আরও কমতে পারে।
শিলিগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গের সমতল এলাকায় জলীয় বাষ্পের কারণে অস্বস্তি থাকতে পারে। পাহাড়ি জেলাগুলিতে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তা বিচ্ছিন্ন এবং হালকা হওয়ারই পূর্বাভাস।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, মায়ানমার উপকূল, দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশ এবং উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের সংলগ্ন এলাকায় থাকা গভীর নিম্নচাপটি ইতিমধ্যে একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। সেটি উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই সিস্টেমের প্রভাবে বাংলাদেশ ও মায়ানমার উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র উত্তাল থাকতে পারে। উত্তর-পূর্ব এবং পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আপাতত বড় কোনও সতর্কতা নেই। তবে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের উত্তর-পূর্ব ও পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ উপকূলের দিকেও না যাওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
IMD-র সাম্প্রতিক সামুদ্রিক বুলেটিনেও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে এক-দু’জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে এবং সমুদ্র পরিস্থিতি আপাতত মসৃণ থাকার কথা জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, আগামী কয়েক দিন বাংলায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা নেই। বৃহস্পতি ও শুক্রবার কিছু জেলায় হালকা বৃষ্টি হলেও সপ্তাহের শেষ দিকে ফের বৃষ্টির প্রবণতা কমবে। তবে বৃষ্টির বদলে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে বাড়তে পারে গুমোট ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি।



