মঙ্গলবার রাজ্যের দুই প্রান্তে রাজনৈতিক উত্তেজনার দুটি ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পূর্ব যাদবপুর থানার বাইরে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে মারধরের অভিযোগ ওঠে, অন্যদিকে বারুইপুর আদালতে সিপিআইএম নেতা তথা আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ডিম ছোড়ার অভিযোগ সামনে আসে। এই দুই ঘটনাতেই মুখ খুলেছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক বিক্ষোভের একটি সীমারেখা থাকা প্রয়োজন এবং এই ধরনের ঘটনাকে বিজেপি সমর্থন করে না।
বারুইপুর আদালতে ভাঙড় কলেজের অশান্তির ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া পড়ুয়াদের হয়ে সওয়াল করতে গিয়েছিলেন সিপিআইএম নেতা ও আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালত চত্বরে তাঁর দিকে ডিম ছোড়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর বক্তব্য, আইনজীবীর পোশাক পরে পেশাগত দায়িত্ব পালন করার সময়ই এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আদালত চত্বরের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তবে এই অভিযোগ নিয়ে পুলিশের বক্তব্যও সামনে এসেছে। বারুইপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ এমন কোনও ঘটনা নিজের চোখে দেখেনি। মাটিতে পড়ে থাকা ডিমও তাঁদের নজরে আসেনি বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। যদিও নির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দিলীপ ঘোষ বলেন, “সবকিছুর একটা সীমা থাকা উচিত।” তাঁর বক্তব্য, আদালত চত্বরে কী ভাবে কেউ ডিম নিয়ে ঢুকল, তা পুলিশের নজরে রাখা উচিত ছিল। একইসঙ্গে বিক্ষোভ দেখানোর অধিকার থাকলেও তা যেন সীমা ছাড়িয়ে না যায়, সেই বার্তাই দিয়েছেন তিনি।
দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিক্ষোভের যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তার জন্য বিরোধী দলগুলিকেই দায়ী করা উচিত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আদালত বা বিচারপতিকে ঘিরে বিক্ষোভের মতো ঘটনা আগে বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির হাত ধরে সামনে এসেছে। এখন সেই প্রবণতা আরও ছড়িয়ে পড়ছে বলেই তাঁর দাবি।
অন্যদিকে, মুকুন্দপুরে দলীয় কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার উত্তেজনা ছড়ায়। মমতা-পন্থী তৃণমূলের মিছিলকে ঘিরে বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষের মধ্যে হুমায়ুন কবীর আহত হয়েছেন বলে তাঁর শিবিরের দাবি। তাঁর মুখ ও চোখে আঘাতের ছবি ও ভিডিয়োও সামনে এসেছে। বিজেপি অবশ্য মিছিলে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পরে পূর্ব যাদবপুর থানায় অভিযোগ জানাতে যাওয়ার সময়ও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পুলিশের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
মুকুন্দপুরের এই ঘটনা নিয়ে অবশ্য আলাদা সুর দিলীপ ঘোষের। হুমায়ুন কবীরকে মারধরের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন তাঁকে আক্রমণ করা হবে। একইসঙ্গে গোটা ঘটনাকে রাজনৈতিক অস্তিত্বের সংকট থেকে তৈরি ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বিরোধী শিবিরের বিভিন্ন দল নিজেদের মধ্যেই সংঘাতে জড়াচ্ছে এবং সেই ঘটনাকে প্রচারের জন্য ব্যবহার করছে।
দুটি ঘটনাকে ঘিরেই রাজনৈতিক চাপানউতোর এখন তুঙ্গে। একদিকে আদালত চত্বরে আইনজীবীকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগের তদন্তের দাবি উঠছে, অন্যদিকে মুকুন্দপুরের সংঘর্ষে আহত হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা চলছে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে পুলিশি তদন্ত এবং পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর।



