সামান্য জ্বর, সর্দি-কাশি কিংবা শরীরের ব্যথা হলেই নিজের মতো করে পেনকিলার বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে ফের সতর্ক করল কেন্দ্র। অতিরিক্ত বা ভুলভাবে এই ওষুধ ব্যবহার করলে কিডনির উপর গুরুতর চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আগে থেকেই কিডনির সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়ার ঝুঁকি আরও বেশি। কেন্দ্রের ওষুধ নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার সাম্প্রতিক সতর্কবার্তার মূল লক্ষ্যই হল এই ধরনের self-medication কমানো।
ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (DCGI) রাজীব সিং রঘুবংশী (Rajeev Singh Raghuvanshi)-র নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার পক্ষ থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। রঘুবংশী বর্তমানে Central Drugs Standard Control Organisation বা CDSCO-র Drugs Controller General of India।
চিকিৎসকদের মতে, বিশেষ করে কিছু NSAID ধরনের ব্যথানাশক দীর্ঘদিন বা বেশি মাত্রায় ব্যবহার করলে কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে যেতে পারে এবং acute kidney injury-র মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু অ্যান্টিবায়োটিকও ভুল মাত্রায় বা ভুল পরিস্থিতিতে ব্যবহার করলে কিডনির উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কোন ওষুধ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা, ডোজ এবং অন্যান্য ওষুধের উপর নির্ভর করে।
সমস্যার বড় জায়গা হল, অনেকেই আগের প্রেসক্রিপশন দেখে একই ওষুধ নিজের মতো করে খেয়ে নেন। আবার কেউ কেউ বাড়িতে পড়ে থাকা অ্যান্টিবায়োটিক নতুন করে শুরু করেন। অথচ সব জ্বর বা সর্দি-কাশির জন্য অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না। ভাইরাসজনিত সংক্রমণের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক কাজও করে না। ভুলভাবে ব্যবহার করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণুর সমস্যাও বাড়ে।
কিডনির রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী অসুখে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময় আগে থেকেই কিডনির সমস্যা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা নিয়মিত খাওয়া অন্য ওষুধের কথা জানানো প্রয়োজন। কারণ একই ওষুধ একজনের জন্য উপযুক্ত হলেও অন্য রোগীর ক্ষেত্রে ডোজ পরিবর্তন বা সম্পূর্ণ অন্য ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে।
চিকিৎসকদের জন্যও রোগীর বয়স, কিডনির কার্যক্ষমতা, অন্যান্য শারীরিক সমস্যা এবং একইসঙ্গে চলা ওষুধ বিবেচনা করে প্রেসক্রিপশন দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কিডনির ঝুঁকি বেশি থাকা রোগীর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন কার্যকর ডোজ এবং যতটা সম্ভব কম সময়ের চিকিৎসা বেছে নেওয়ার নীতি অনুসরণ করা হয়।
ওষুধের দোকান থেকেও প্রেসক্রিপশন-ভিত্তিক ওষুধ বিক্রির নিয়ম মেনে চলার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে ভারতে Schedule H1-সহ একাধিক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পুরনো প্রেসক্রিপশন বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক কেনার প্রবণতা এখনও রয়েছে।
কেন্দ্রের এই সতর্কতার গুরুত্ব বোঝা যায় সাম্প্রতিক চিকিৎসা-তথ্য থেকেও। চলতি সেপ্টেম্বরেই মধ্যপ্রদেশের এক ব্যক্তির অতিরিক্ত পেনকিলার ব্যবহারের পর গুরুতর কিডনি সমস্যার খবর সামনে আসে। চিকিৎসকেরা বারবার সতর্ক করছেন, ব্যথা বা জ্বরের কারণ না জেনে দীর্ঘদিন ওষুধ খেয়ে যাওয়া নিরাপদ নয়।
এখানে মনে রাখা জরুরি, চিকিৎসকের পরামর্শে সঠিক ওষুধ, সঠিক মাত্রায় এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খাওয়া আর নিজের ইচ্ছায় বারবার ওষুধ খাওয়া এক বিষয় নয়। তাই বারবার জ্বর, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বা একই উপসর্গ ফিরে এলে পুরনো প্রেসক্রিপশন অনুসরণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। বিশেষ করে কিডনির অসুখ থাকলে কোনও নতুন ওষুধ শুরু করার আগে চিকিৎসককে সেই তথ্য জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



