‘বাংলা বরবাদ হয়ে গিয়েছে’, নাবালিকা বিয়ে-মাদক নিয়ে কেন কাশ্মীরের প্রসঙ্গ টানলেন শুভেন্দু?

নাবালিকা বিয়ে, অল্প বয়সে গর্ভধারণ ও মাদকের প্রসঙ্গ তুলে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। দুর্গাপুজোর পর সমাজ সংস্কারের রোডম্যাপ তৈরির বার্তা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নাবালিকা বিয়ে, অল্প বয়সে গর্ভধারণ এবং মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Shuvendu Adhikari)। মঙ্গলবার ভবানীপুরের জৈন মন্দিরে পবিত্র সম্বৎসরী দিবসের অনুষ্ঠানে গিয়ে সমাজ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই ক্ষেত্রগুলিতে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক এবং তাঁর ভাষায়, “বাংলা বরবাদ হয়ে গিয়েছে, কাশ্মীরের সঙ্গে কমপিটিশন করছে।” তবে এই পরিসংখ্যানগত তুলনার বিস্তারিত তথ্য তিনি এদিন প্রকাশ্যে তুলে ধরেননি।

শুধু নাবালিকা বিয়ে নয়, রাজ্যে মাদক ছড়িয়ে পড়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মাদক উদ্ধার হচ্ছে। সমাজে নেশার প্রবণতা কমাতে প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলিকেও সক্রিয় হওয়ার বার্তা দেন তিনি।

এদিনের অনুষ্ঠানে জৈন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী সমাজ সংস্কারের কাজে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপে এই ধরনের সামাজিক সমস্যার মোকাবিলা করা সম্ভব নয়, প্রয়োজন সামাজিক উদ্যোগও।

কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে নেশা থেকে দূরে রাখার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারের কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সমাজে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে জৈন সম্প্রদায়কে একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করার পরামর্শ দেন তিনি।

শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্গাপুজোর পর জৈন সম্প্রদায়ের সঙ্গে একটি বৈঠক করা হবে। সেখানে সমাজ সংস্কারের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। সেই পরিকল্পনা সরকারের কাছে জমা দেওয়ার জন্যও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

জৈন সমাজের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন তিনি। সম্প্রদায়ের সদস্যদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, সমাজের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় সরকার ও সমাজের মধ্যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।

তবে নাবালিকা বিয়ে, অল্প বয়সে গর্ভধারণ কিংবা মাদক সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে তাঁর দাবি হিসেবেই দেখা উচিত। এদিনের বক্তব্যে যে কাশ্মীরের সঙ্গে তুলনার কথা বলা হয়েছে, তার সমর্থনে নির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান বা রিপোর্টের উল্লেখ করা হয়নি।

সমাজ সংস্কারের জন্য দুর্গাপুজোর পর রোডম্যাপ তৈরির যে উদ্যোগের কথা মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সেটিই এখন এই ঘোষণার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে সামনে আসছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন