বড়বাজারে ওষুধের বাজারে হানা, জাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের খোঁজে ড্রাগ কন্ট্রোল-ইবি

দুর্গাপুজোর আগে বড়বাজারের মেহতা বিল্ডিংয়ে ওষুধের দোকানগুলিতে যৌথ অভিযান চালাল ড্রাগ কন্ট্রোল ও কলকাতা পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। জাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের সন্ধানে চলে নথি ও স্টক পরীক্ষা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: দুর্গাপুজোর আগে খাবারের পর এ বার ওষুধের বাজারেও নজরদারি বাড়াল প্রশাসন। বুধবার কলকাতার বড়বাজারের মেহতা বিল্ডিংয়ে বড়বাজারে ওষুধের দোকানে অভিযান চালাল রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল (West Bengal Drug Control) এবং কলকাতা পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (Enforcement Branch, Kolkata Police)। বিভিন্ন দোকানে ওষুধের নথি, ব্যাচ নম্বর এবং মজুত সামগ্রী পরীক্ষা করা হয়।

অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল জাল ওষুধ, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ কিংবা নিষিদ্ধ কোনও ড্রাগ বেআইনিভাবে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা। আধিকারিকরা একাধিক ওষুধের প্যাকেট হাতে নিয়ে তার ব্যাচ নম্বর ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র মিলিয়ে দেখেন বলে জানা গিয়েছে।

বড়বাজারের মেহতা বিল্ডিং কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি ওষুধের বাজার। তুলনামূলক কম দামে ওষুধ মেলার কারণে এখানকার একাধিক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের খুচরো বিক্রেতারাও ওষুধ সংগ্রহ করেন। ফলে এই বাজারে ওষুধের গুণমান ও বৈধতা নিয়ে কোনও অনিয়ম থাকলে তার প্রভাব বৃহত্তর বাজারে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

বুধবারের অভিযানে আধিকারিকরা দোকানগুলিতে থাকা ওষুধের স্টক এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পরীক্ষা করেন। বিশেষ করে ওষুধের ব্যাচ নম্বর, মেয়াদ এবং বিক্রির অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে নজর দেওয়া হয়। তবে অভিযানে ঠিক কত পরিমাণ জাল বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট তথ্য সামনে আসেনি।

বড়বাজারে এই অভিযান এমন এক সময়ে হল, যখন কলকাতা ও রাজ্যে খাদ্যপণ্যের মান নিয়েও ধারাবাহিক তল্লাশি চলছে। গত কয়েক দিনে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা একাধিক রেস্তরাঁ, হোটেল এবং রাস্তার ধারের খাবারের দোকানে অভিযান চালিয়েছেন। বিভিন্ন জায়গায় খাদ্যসামগ্রীর মান নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে।

এরই মধ্যে কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation) শহরের ৪০টি রেস্তরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড করেছে বলে জানা গিয়েছে। কোথাও সংরক্ষিত খাবারে ছত্রাক, কোথাও পচা মাংস মজুত থাকার অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রশাসনের এই ধারাবাহিক অভিযানের মধ্যেই এ বার নজর পড়ল ওষুধের পাইকারি বাজারে।

সাম্প্রতিক সময়ে জাল ওষুধ বিক্রির অভিযোগ ঘিরে কলকাতা-সহ বিভিন্ন জায়গায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইনে কম দামে ওষুধ বিক্রির আড়ালে ভেজাল বা নকল ওষুধ সরবরাহের অভিযোগও অতীতে সামনে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে পাইকারি বাজারে ওষুধের বৈধতা এবং গুণমান যাচাইকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।

পুজোর আগে শহরের নিরাপত্তা ও পরিষেবা ব্যবস্থাও প্রশাসনের নজরে রয়েছে। বুধবারই কলকাতা ও শহরতলির একাধিক মলে পুলিশ এবং দমকলের আধিকারিকরা পরিদর্শনে যান। সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়।

তবে বড়বাজারের অভিযানের পর কোনও দোকানের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা পরীক্ষার পর কতগুলি ওষুধের নমুনা সন্দেহজনক বলে চিহ্নিত হয়েছে, সেই বিষয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। পরীক্ষার ফল এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের উপরই এখন নির্ভর করবে অভিযানের পূর্ণ ফলাফল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন