‘সারা বছর টাকা জমাই পুজোয় কব্জি ডুবিয়ে মাংস-ইলিশ খাব বলে’, আমিষ বিতর্কে অগ্নিমিত্রা

দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিয়ে বিতর্কে অগ্নিমিত্রা পলের মন্তব্য ঘিরে চর্চা। বাংলার দুর্গাপুজো অন্য রাজ্যের নবরাত্রির মতো নয়, বাঙালির খাবার-পোশাক অন্য কেউ ঠিক করে দিতে পারেন না বললেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিয়ে বিতর্কে এবার মুখ খুললেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল (Agnimitra Paul)। পশ্চিমবঙ্গে এসে বাগেশ্বরধামের পীঠাধীশ্বর ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী (Dhirendra Krishna Shastri) পুজোর সময় আমিষ না খাওয়ার পক্ষে সওয়াল করতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। অগ্নিমিত্রার বক্তব্য, বাংলার দুর্গাপুজোকে অন্য রাজ্যের নবরাত্রির সংস্কৃতির সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়।

এর আগে একই বিষয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তাঁর বক্তব্য ছিল, বাঙালি দুর্গাপুজোয় কী খাবেন, তা নিয়ে বাইরের কারও নির্দেশ মানতে হবে না। অষ্টমীতে লুচি এবং নবমীতে পাঁঠার মাংস খাওয়ার বাঙালি রীতির কথাও তুলে ধরেছিলেন তিনি।

মঙ্গলবার শমীকের সেই অবস্থানকেই সমর্থন করেন অগ্নিমিত্রা। তাঁর বক্তব্য, বাংলার দুর্গাপুজোর সংস্কৃতি অন্য রাজ্যের নবরাত্রির রীতির থেকে আলাদা। ফলে অন্য রাজ্যের পুজোর রীতি দেখে বাংলার মানুষ কী খাবেন, তা ঠিক করে দেওয়া যায় না।

অগ্নিমিত্রার কথায়, ‘‘আমরা সারা বছর টাকাপয়সা জমাই পুজোর চার দিন রেস্টুরেন্টে গিয়ে কব্জি ডুবিয়ে মাংস খাব বলে। ইলিশ মাছ খাব বলে। সুতরাং রাজ্যে রাজ্যে কালচারটা আলাদা।’’

এখানেই থামেননি তিনি। বাঙালির খাবার, পোশাক কিংবা উৎসবের সময়সূচি নিয়ে অন্য কারও নির্দেশ মেনে নেওয়ার প্রশ্ন নেই বলেও মন্তব্য করেন অগ্নিমিত্রা। তাঁর কথায়, বাঙালি কী খাবেন, কী পোশাক পরবেন, কখন বাড়ি থেকে বেরোবেন বা কখন ফিরবেন—সেই সিদ্ধান্ত অন্য কেউ ঠিক করে দিতে পারেন না।

ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্য প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রার বক্তব্য, তিনি তাঁর জানা সংস্কৃতির ভিত্তিতে কথা বলেছেন। কিন্তু বাংলার সাংস্কৃতিক বাস্তবতা আলাদা। একই সঙ্গে রাজনীতির সঙ্গে ধর্মীয় আবেগকে না মেশানোর আবেদনও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘যারা রাজনীতি করছেন, রাজনীতি করবেন না। রাজনীতির আগুনে আবার রুটি সেঁকবেন না।’’

বিতর্কের সূত্রপাত রবিবার হাওড়ার লিলুয়ায় ‘হনুমান কথা’র অনুষ্ঠানে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণের বক্তব্য ঘিরে। সেখানে তিনি নবরাত্রির সময় দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলের পিছনে আমিষ খাবার রান্না ও খাওয়ার সমালোচনা করেন। কলকাতার হিন্দুদের এই ধরনের খাবারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আবেদনও জানান তিনি।

তাঁর বক্তব্য ছিল, নবরাত্রির সময় দেবীর প্রতিমা থাকুক বা না থাকুক, প্রতিমার পাশে আমিষ খাবার বিক্রি করা উচিত নয়। এই মন্তব্য সামনে আসার পরই বাংলার দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবারের প্রচলন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।

এর আগে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)-ও দুর্গাপুজো নিয়ে কিছু নির্দেশিকা প্রকাশ করেছিল। সেখানে পুজোমণ্ডপের ভিতরে সাত্ত্বিক রীতি মেনে নিরামিষ ভোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। মণ্ডপের ভিতরে আমিষ খাদ্যদ্রব্য প্রবেশ না করানোর কথাও ছিল সেই নির্দেশিকায়। তবে মণ্ডপের বাইরে আমিষ খাবারের স্টল রাখার ক্ষেত্রে আপত্তি করা হয়নি।

ফলে দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিয়ে বিতর্ক এখন ধর্মীয় রীতি থেকে বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রশ্নেও পৌঁছে গিয়েছে। একদিকে নিরামিষ ও সাত্ত্বিক পরিবেশ বজায় রাখার দাবি, অন্যদিকে বাঙালির দীর্ঘদিনের মাছ-মাংস খাওয়ার সংস্কৃতির পক্ষে সওয়াল—দুই মতের সংঘাতেই পুজোর আগে বিষয়টি নতুন রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন