ভারতের নিউজিল্যান্ড সফর শুরু হতে এখনও প্রায় দু’মাস বাকি। তার আগেই রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) ও বিরাট কোহলি (Virat Kohli)-কে নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে রাখলেন কিউয়ি অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার (Mitchell Santner)। তিন ফরম্যাটে সিরিজ হলেও এক দিনের ম্যাচ নিয়েই বেশি চিন্তা নিউজিল্যান্ডের। কারণ ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের প্রস্তুতির পথে এই সিরিজকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই দেখছে তারা।
ভারতীয় দল আগামী মাসে নিউজিল্যান্ড সফরে যাবে। সেখানে তিন ফরম্যাটেই সিরিজ খেলার কথা রয়েছে। তবে এক দিনের ক্রিকেটে রোহিত ও কোহলির উপস্থিতিই কিউয়ি শিবিরের বাড়তি মাথাব্যথার কারণ। চার নভেম্বর প্রথম এক দিনের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে সিরিজ।
স্যান্টনারের কথাতেই ধরা পড়েছে সেই উদ্বেগ। ভারতীয় ক্রিকেটের দুই তারকা অতীতে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এক দিনের ক্রিকেটে দারুণ সফল হয়েছেন। কিউয়ি অধিনায়ক তাই চাইছেন, এ বার যেন সেই ছবি দেখা না যায়।
স্যান্টনার বলেছেন, সিরিজটি কঠিন হতে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে রোহিত ও কোহলির অসাধারণ ক্রিকেট দেখেছে নিউজিল্যান্ড। এক দিনের ক্রিকেটে দু’জনেই দীর্ঘ সময় ধরে দাপট দেখিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের পিচও অতীতে তাঁদের পছন্দের হয়েছে। এ বার সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি না হলেই কিউয়ি শিবির স্বস্তি পাবে।
২০২৭ বিশ্বকাপের আগে বড় পরীক্ষা
নিউজিল্যান্ডের কাছে এই সিরিজের গুরুত্ব শুধু ভারতকে হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের বিরুদ্ধে পাঁচটি ম্যাচের পর ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে খেলবে নিউজিল্যান্ড।
তার পর সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ড সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কিউয়িদের। ফলে বিশ্বকাপের প্রায় এক বছর আগে দলের কাঠামো এবং সম্ভাব্য কম্বিনেশন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা তৈরি করে নিতে চাইছেন স্যান্টনার।
তাঁর কথায়, ভারতকে দেশের মাটিতে হারানোই এখন প্রথম লক্ষ্য। সেই কাজটা করতে পারলে পরবর্তী পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অনেক সহজ হবে। বিশ্বকাপের সময় কোন ক্রিকেটারদের নিয়ে দল গড়া হবে, সেটাও দ্রুত ঠিক করে নিতে চাইছে নিউজিল্যান্ড।
ভারতের নতুন দল নিয়েও সতর্ক কিউয়িরা
তবে রোহিত-কোহলিকে নিয়ে চিন্তার পাশাপাশি ভারতীয় দলের নতুন চেহারাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন স্যান্টনার। তাঁর মতে, ভারতীয় দলে এমন অনেক ক্রিকেটার থাকবেন, যাঁদের কাছে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে খেলার অভিজ্ঞতা নতুন।
স্যান্টনারের মতে, নতুন পরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াই ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। অনেক ভারতীয় ক্রিকেটার প্রথম বার নিউজিল্যান্ডের পিচে খেলবেন। ফলে নিজেদের প্রমাণ করার বাড়তি তাগিদ তাঁদের মধ্যে থাকবে বলেই মনে করছেন তিনি।
ভারতের বোলিং বিভাগ নিয়েও যথেষ্ট সতর্ক কিউয়ি অধিনায়ক। জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah)-র নেতৃত্বে ভারতীয় পেস আক্রমণ যে শক্তিশালী হবে, তা মেনে নিয়েছেন তিনি। মহম্মদ সিরাজ (Mohammed Siraj) ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ (Prasidh Krishna)-র পাশাপাশি দলে আরও এক পেসার থাকার সম্ভাবনাও দেখছেন তিনি।
স্পিন বিভাগেও ভারতকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই বলে মনে করছে নিউজিল্যান্ড। রবীন্দ্র জাডেজা (Ravindra Jadeja) এবং মানব সুতার (Manav Suthar)-এর মতো স্পিনারদের উল্লেখ করেছেন স্যান্টনার। সব মিলিয়ে ভারতীয় দলের ভারসাম্য নিয়ে কিউয়ি অধিনায়কের যথেষ্ট সমীহ রয়েছে।
ঘরের মাঠে ভারতকে হারাতে মরিয়া নিউজিল্যান্ড
শেষ বার দুই দলের টেস্ট সিরিজে নিউজিল্যান্ডের কাছে নিজেদের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল ভারত। সেই সাফল্যের স্মৃতি কিউয়ি শিবিরে এখনও তাজা। এ বার ঘরের মাঠে ভারতকে হারিয়ে সেই আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে নিতে চাইছে নিউজিল্যান্ড।
তবে কাজটা সহজ হবে না, সেটা স্যান্টনারও জানেন। তাঁর মতে, দ্রুত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই হবে দলের প্রধান চ্যালেঞ্জ। ভারতীয় দল যেমন নতুন মুখ নিয়ে আসবে, তেমনই নিউজিল্যান্ডও ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে নিজেদের সেরা কম্বিনেশন খুঁজবে।
তাই সিরিজ শুরু হতে এখনও সময় থাকলেও রোহিত-কোহলিকে ঘিরে কিউয়ি অধিনায়কের সতর্কতা যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ভারতের দুই তারকার ব্যাট নীরব থাকলেই যে নিউজিল্যান্ডের কাজ অনেকটা সহজ হবে, স্যান্টনারের মন্তব্যে সেই বার্তাই স্পষ্ট।



