শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনেও ব্যাট হাতে দাপট দেখালেন দেবদত্ত পাড়িক্কল। প্রথম টেস্টের পর দ্বিতীয় টেস্টেও শতরান করে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠলেন কর্নাটকের এই বাঁহাতি ব্যাটার। শুভমন গিলও পেলেন অর্ধশতরান। তবে দিনের শেষে স্বস্তির বদলে চিন্তা বাড়ল ঋষভ পন্থকে নিয়ে। কব্জিতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটারকে।
কলম্বোয় টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত। দিনের শেষে ৮৫ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩০০ রান তুলেছে তারা। দেবদত্ত পাড়িক্কল ১৬৮ বলে ১১৭ রান করে আউট হয়েছেন। অন্যদিকে শুভমন গিলের ব্যাট থেকে এসেছে ৫০ রান। দিনের শেষ দিকে পন্থ চোট পাওয়ায় ভারতীয় শিবিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শুরুতেই ভারতের ইনিংসে স্বচ্ছন্দ দেখাচ্ছিল যশস্বী জয়সওয়ালকে। প্রথম উইকেটে ৩৭ রান যোগ হয়। লাহিরু কুমারাকে পর পর দু’টি চার মারেন যশস্বী। পরে প্রভাত জয়সূর্যের বলে কভার ড্রাইভে আরও একটি চার আসে তাঁর ব্যাট থেকে।
কেএল রাহুল অবশ্য শুরু থেকেই যথেষ্ট সংযত ছিলেন। উইকেটে সময় কাটিয়ে ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। প্রভাত জয়সূর্যকে মাথার উপর দিয়ে ছক্কাও মারেন রাহুল। কিন্তু ১৮ রানে থেমে যেতে হয় তাঁকে। লাহিরু কুমারার বলে স্কোয়্যার কাট করতে গিয়ে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।
যশস্বী তখন বড় ইনিংসের দিকে এগোচ্ছিলেন। ৪৫ রানে পৌঁছে গেলেও শেষ পর্যন্ত আর বেশিদূর এগোতে পারেননি। অসিতা ফার্নান্ডোর বল তাঁর রক্ষণ ভেঙে সরাসরি উইকেটে আঘাত করে। বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন যশস্বী।
তাঁর আউটকে কেন্দ্র করে মাঠে উত্তেজনাও তৈরি হয়। যশস্বীকে আউট করার পর অসিতা ফার্নান্ডোর সঙ্গে তাঁর কথাকাটাকাটি হয়। দুই ক্রিকেটারই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক ধনঞ্জয় ডি’সিলভা। পরে বিষয়টি আর বড় আকার নেয়নি।
এর পর ভারতের ইনিংসের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন শুভমন গিল ও দেবদত্ত পাড়িক্কল। দু’জনেই ধৈর্য ধরে ব্যাট করতে থাকেন। শুভমনকে বিশেষ স্বচ্ছন্দ দেখিয়েছে স্পিনার প্রভাত জয়সূর্যের বিরুদ্ধে। শর্ট-আর্ম পুলে দারুণ একটি চার মেরে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি।
তবে অর্ধশতরান করার পর বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি ভারতীয় অধিনায়ক। অসিতা ফার্নান্ডোর বলে ডিকওয়েলার হাতে ক্যাচ দিয়ে ৫০ রানেই ফিরে যান শুভমন। তাঁর আউটের পরই ক্রিজে আসেন ঋষভ পন্থ।
কিন্তু পন্থের ইনিংস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র তিন রানে থাকার সময় লাহিরু কুমারার একটি শর্ট বল তাঁর বাঁ কব্জিতে এসে লাগে। বলটি সামলানোর চেষ্টা করেছিলেন পন্থ, কিন্তু ব্যাটে লাগাতে পারেননি। সরাসরি কব্জিতে আঘাত লাগতেই যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়েন তিনি।
সঙ্গে সঙ্গে মাঠে ছুটে আসেন ভারতীয় দলের ফিজিয়োরা। পন্থের কব্জিতে আইস প্যাক লাগানো হয়। কিন্তু ব্যথা না কমায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর চোট কতটা গুরুতর, তা নিয়ে দিনের শেষে ভারতীয় শিবিরে উদ্বেগ রয়েছে।
পন্থের মাঠ ছাড়ার পর পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায়িত্ব এসে পড়ে দেবদত্ত পাড়িক্কলের উপর। শ্রীলঙ্কার বোলাররা তাঁকে ক্রমাগত চাপে রাখার চেষ্টা করলেও কর্নাটকের এই ব্যাটার নিজের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেননি। গরম এবং কলম্বোর তুলনামূলক কঠিন পিচ—কোনও কিছুই তাঁকে বিচলিত করতে পারেনি।
এই ইনিংসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল পাড়িক্কলের সংযম। প্রথম টেস্টেও শতরান করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় টেস্টেও শুরুতে দু’বার জীবন পেয়েছেন—০ এবং ১ রানে তাঁর ক্যাচ হাতছাড়া হয়েছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্রমশ নিজের ইনিংসকে বড় করেছেন তিনি।
জয়সূর্যের বলে চার মেরে অর্ধশতরান পূর্ণ করার পরও পাড়িক্কলের ব্যাটিংয়ে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়নি। প্রয়োজন অনুযায়ী কাট, ড্রাইভ ও পুল খেলেছেন। পেসারদের বাউন্স সামলে এবং স্পিনারদের বিরুদ্ধে নিজের ফুটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে এগিয়েছেন।
শেষ পর্যন্ত ১৬৮ বলে ১১৭ রান করে আউট হন পাড়িক্কল। জীবনের মাত্র চতুর্থ টেস্টেই পর পর দুই ম্যাচে শতরান—ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁর উত্থান যে কতটা দ্রুত, এই পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ। প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় টেস্টেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে জাতীয় দলের মিডল অর্ডারে নিজের জায়গা আরও শক্ত করলেন তিনি।
প্রথম দিনের শেষে তাই ভারতের স্কোরবোর্ডে ৩০০/৫। ব্যাট হাতে পাড়িক্কলের দুর্দান্ত ফর্ম এবং শুভমনের অর্ধশতরান স্বস্তি দিচ্ছে ভারতকে। তবে দ্বিতীয় দিনের আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—ঋষভ পন্থের কব্জির চোট কতটা গুরুতর। তাঁর ফিটনেসের রিপোর্টের দিকেই নজর থাকবে ভারতীয় ক্রিকেটমহলের।



