‘ইউনূস বাংলাদেশকে ধ্বংস করেছেন’, বিস্ফোরক অভিযোগ শিল্পপতি শওকত আজিজ রাসেলের

মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে বিদেশি শক্তির সঙ্গে করা চুক্তি নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন BTMA সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, করব্যবস্থা ও মেগাপ্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন তাঁর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে (Muhammad Yunus) ঘিরে ফের তীব্র বিতর্ক। দেশকে ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তাঁর আমলে—এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বাংলাদেশের শীর্ষ শিল্পপতি ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (BTMA) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল (Showkat Aziz Russell)। তাঁর দাবি, বিদেশি শক্তিকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে ইউনূস সরকারের সময় এমন কিছু চুক্তি হয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে।

বাংলাদেশের একটি টেলিভিশন টক-শোয়ে দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময় ইউনূসের বিরুদ্ধে সরব হন রাসেল। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বিদেশের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি করা হয়েছে, যার বিষয়ে দেশের নাগরিক ও ব্যবসায়ী মহলকে যথেষ্ট অবহিত করা হয়নি।

রাসেলের দাবি, ওই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা কোনও কোনও ক্ষেত্রে সীমিত হয়ে যেতে পারে। বিদেশি অনুমোদনের উপর নির্ভরশীলতা তৈরি হলে দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এ ভাবে দেশের সার্বভৌমত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে।

শিল্পপতির আরও অভিযোগ, চুক্তিটি তাড়াহুড়ো করে এবং পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ছাড়াই করা হয়েছিল। এর পিছনে অসৎ উদ্দেশ্য ছিল বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। যদিও রাসেলের এই সমস্ত বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত অভিযোগ ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন; চুক্তিটির নির্দিষ্ট শর্ত বা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে তার প্রকৃত প্রভাব নিয়ে স্বাধীন ভাবে যাচাই করা তথ্য এই বক্তব্যে সামনে আসেনি।

ইউনূসের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং কর সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাসেল। তাঁর অভিযোগ, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ নিজের কিছু প্রতিষ্ঠানকে অলাভজনক বা ‘নন-প্রফিট’ কাঠামোর আওতায় রেখে করের সুবিধা নিয়েছেন। আইনি ব্যবস্থার সুযোগ ব্যবহার করে কর এড়ানোর অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

চ্যারিটি বা দাতব্য প্রতিষ্ঠানের কাঠামো ব্যবহার করে যে ধরনের সুবিধা ইউনূস পেয়েছেন বলে রাসেলের অভিযোগ, সাধারণ ব্যবসায়ীরা একই ধরনের সুবিধা পান কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তবে কর ফাঁকির অভিযোগগুলি যে প্রতিষ্ঠিত সত্য, এমন কোনও স্বাধীন প্রমাণ এই বক্তব্যের সঙ্গে উপস্থাপিত হয়নি।

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও (Sheikh Hasina) এর আগে ইউনূসের বিরুদ্ধে দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই রাজনৈতিক সমালোচনার সুরেই এবার শিল্পপতি রাসেলের বক্তব্য সামনে এল। তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইউনূসকে ঘিরে মতবিরোধ যে অত্যন্ত তীব্র, এই বক্তব্য তারই আরেকটি উদাহরণ।

রাসেল নিজে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। দেশের শিল্প ও ব্যবসা সংক্রান্ত আলোচনায় তাঁর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তাঁর মতো একজন শিল্পপতির মুখে ইউনূস সরকারের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং বিদেশি চুক্তি নিয়ে এমন অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শুধু বিদেশি চুক্তি নয়, বাংলাদেশের বড় পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির অর্থনৈতিক যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাসেল। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (Rooppur Nuclear Power Plant) এবং বিভিন্ন মেগাপ্রকল্পের চুক্তি ও ব্যয় নিয়েও তিনি আপত্তি জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে ইউনূসের আমলের অর্থনৈতিক নীতি, বিদেশি চুক্তি, করব্যবস্থা এবং বড় প্রকল্পের খরচ—একাধিক বিষয়কে একই সঙ্গে নিশানা করেছেন শওকত আজিজ রাসেল। তাঁর অভিযোগ ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হলেও, উত্থাপিত প্রতিটি দাবির সত্যতা নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্ট চুক্তি, আর্থিক নথি এবং সরকারি তথ্য খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন