‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে অভ্যাস খারাপ’, অন্নপূর্ণার টাকা না পাওয়া নিয়ে দিলীপের বিস্ফোরক মন্তব্য

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা না পাওয়া নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যখন ক্ষোভ-বিক্ষোভ বাড়ছে, তখনই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) আমলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন টাকা পাওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘অভ্যাস’ তৈরি হয়েছে। কিন্তু সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সবার জন্য নয়, নির্দিষ্ট যোগ্যতার ভিত্তিতেই উপভোক্তা বাছাই করা হবে বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

শনিবার সকালে মর্নিং ওয়াকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন দিলীপ। অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা না পাওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্র ও রাজ্য—দুই সরকারই বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালায়। প্রতিটি প্রকল্পের নির্দিষ্ট নিয়ম ও যোগ্যতার মাপকাঠি রয়েছে। সেই মাপকাঠির মধ্যে যাঁরা পড়বেন, তাঁরাই সুবিধা পাবেন।

দিলীপের কথায়, সবাইকে সরকারি সাহায্য দেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের সময়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মাধ্যমে ব্যাপক হারে টাকা দেওয়ার ফলে মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে যে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সকলেই পাবেন। সেই ধারণা বদলানো প্রয়োজন বলেই মন্তব্য করেন তিনি।

অন্নপূর্ণা যোজনায় যোগ্য উপভোক্তাদের টাকা দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের তরফে আগেই সময়সীমা জানানো হয়েছিল। প্রায় দু’সপ্তাহ আগে বলা হয়েছিল, যোগ্য বলে বিবেচিত উপভোক্তাদের ১৭ অগস্ট থেকে টাকা দেওয়া শুরু হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পরেও বহু মানুষ টাকা পাননি বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরই বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ও অবরোধ শুরু হয়।

শুক্রবার মেদিনীপুরে গিয়ে পরিস্থিতির মুখোমুখি হন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। কর্নেলগোলার কাছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা তাঁকে স্বাগত জানাচ্ছিলেন। সেই সময় স্থানীয় কয়েকজন মহিলা মন্ত্রীর কাছে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ার অভিযোগ জানান। তাঁদের প্রশ্ন ছিল, যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁরা ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর সুবিধা পাচ্ছেন না।

পরিস্থিতিতে অগ্নিমিত্রা স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। পরে মেদিনীপুর কালেক্টরেটেও তাঁকে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। সেখানে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে মন্ত্রী জানান, এসডিও অফিসে অভিযোগ লিখিত ভাবে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি আবেদন বা নথি আপলোডের ক্ষেত্রেও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে জানান তিনি।

তবে শুধু প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার দেরিকেই দায়ী করেননি অগ্নিমিত্রা। তাঁর অভিযোগ, সরকারি ব্যবস্থার ভিতরে তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ কিছু মানুষ রয়েছেন এবং তাঁদের একাংশের কারণে উপযুক্ত উপভোক্তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁর দাবি, যোগ্যদের বদলে কোথাও কোথাও অযোগ্যদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। ফলে যাঁরা প্রকৃত অর্থে যোগ্য, তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ বলেও অভিযোগ করেছেন পুরমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে জানাবেন। একইসঙ্গে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নিয়ে চলা বিতর্ক আরও রাজনৈতিক মাত্রা পেল। একদিকে যোগ্য উপভোক্তাদের টাকা দেওয়ার দাবি, অন্যদিকে আবেদন যাচাই ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন—সব মিলিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনা এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়। আগামী দিনে বঞ্চিতদের অভিযোগ কীভাবে মেটানো হয় এবং প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তারা কবে টাকা হাতে পান, এখন সেদিকেই নজর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন