বাসের হর্ন, ট্রাফিকের আওয়াজ কিংবা চারপাশের মানুষের কোলাহল—হোয়াটসঅ্যাপ কলে কথা বলার সময় এবার এসব নিয়ে আর তেমন চিন্তা করতে হবে না। কলের ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ কমিয়ে আপনার কণ্ঠস্বর আরও পরিষ্কার করে তুলতে ‘Noise Suppression’ ফিচার চালু করেছে হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp)। Meta জানিয়েছে, নতুন এই সুবিধা ধীরে ধীরে ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং কলের মধ্যেই সেটি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
হোয়াটসঅ্যাপের নতুন Noise Suppression ফিচারের মূল কাজ হল আশপাশের অবাঞ্ছিত শব্দ কমিয়ে যাঁর সঙ্গে কথা বলছেন, তাঁর কাছে আপনার গলার আওয়াজ আরও স্পষ্ট করে পৌঁছে দেওয়া। ফলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে, ব্যস্ত বাজারে কিংবা অন্য কোনও কোলাহলপূর্ণ জায়গা থেকে ফোন করলেও কথোপকথনের মান অনেকটাই উন্নত হতে পারে।
আগে হোয়াটসঅ্যাপ কলে পারিপার্শ্বিক শব্দ অনেক সময় কথার উপর প্রভাব ফেলত। বিশেষ করে ট্রাফিক, হাওয়া, ফ্যানের শব্দ বা মানুষের গুঞ্জনের মধ্যে কথা বললে ওপারের ব্যক্তিকে ঠিকমতো শোনানো কঠিন হয়ে যেত। নতুন Noise Suppression সেই সমস্যাটাই কমানোর চেষ্টা করবে।
Meta-র ঘোষণা অনুযায়ী, ফিচারটি কল চলাকালীন in-call settings থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। অর্থাৎ প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারকারী এই সুবিধা চালু বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। নতুন আপডেটের সঙ্গে কলিং অভিজ্ঞতায় আরও এক ধাপ উন্নতি আনার লক্ষ্যেই এই প্রযুক্তি যোগ করা হয়েছে।
এই ফিচারটি নিয়ে অবশ্য কয়েক মাস ধরেই পরীক্ষা চলছিল। এপ্রিল মাসে Android beta সংস্করণের সীমিত সংখ্যক ব্যবহারকারীর কাছে Noise Cancellation নামে ফিচারটি দেখা গিয়েছিল। তখন এর কাজ ছিল কলের সময় ট্রাফিক, হাওয়া বা আশপাশের শব্দ কমিয়ে বক্তার কণ্ঠস্বরকে আরও পরিষ্কার করা।
পরীক্ষামূলক পর্যায়ে Android ব্যবহারকারীদের জন্য এই সুবিধা নিয়ে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই ফোনের নিজস্ব অডিয়ো প্রসেসিংয়ের উপর নির্ভর করতে হয়। হোয়াটসঅ্যাপের নিজস্ব কলিং ব্যবস্থার মধ্যে Noise Suppression যুক্ত হওয়ায় অ্যাপ থেকেই পারিপার্শ্বিক শব্দ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হল।
তবে এটিকে শুধু Android-কেন্দ্রিক পরীক্ষামূলক ফিচার হিসেবে দেখলে ভুল হবে। হোয়াটসঅ্যাপ ২৮ জুলাই ২০২৬-এর ঘোষণায় জানিয়েছে, Noise Suppression-সহ একাধিক নতুন কলিং সুবিধা ধীরে ধীরে ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। একই ঘোষণায় WhatsApp Web থেকে সরাসরি অডিয়ো ও ভিডিয়ো কল, কল এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ট্রান্সফার এবং গ্রুপ কলে waiting room-এর মতো ফিচারের কথাও জানানো হয়েছে।
প্রাইভেসি নিয়ে কী বলছে হোয়াটসঅ্যাপ?
নতুন কলিং ফিচার এলেই স্বাভাবিক ভাবেই ব্যবহারকারীদের মনে প্রশ্ন ওঠে, কলের অডিয়ো কি কোথাও প্রসেস বা সংরক্ষণ করা হচ্ছে? হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত কলগুলি ডিফল্ট ভাবে end-to-end encrypted থাকে। Meta-ও জানিয়েছে, ব্যক্তিগত WhatsApp calls এই এনক্রিপশনের আওতায় সুরক্ষিত থাকে।
অর্থাৎ Noise Suppression চালু হলেও হোয়াটসঅ্যাপের ব্যক্তিগত কলের end-to-end encryption ব্যবস্থা বজায় থাকছে। Meta-র ভাষ্য অনুযায়ী, এই কলিং অভিজ্ঞতা আগের মতোই ব্যক্তিগত ও সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্য রয়েছে।
কবে থেকে পাওয়া যাবে?
এখানেই সবচেয়ে বড় আপডেট। ফিচারটি এখন আর শুধু ‘আসতে চলেছে’ এমন পর্যায়ে নেই। হোয়াটসঅ্যাপ ইতিমধ্যেই Noise Suppression চালু করার ঘোষণা করেছে। তবে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, নতুন কলিং সুবিধাগুলি ধাপে ধাপে ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছবে। তাই কারও ফোনে সুবিধাটি আগে দেখা যেতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে আপডেট পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
ফলে ট্রেন, বাস, ব্যস্ত রাস্তা কিংবা কোলাহলপূর্ণ অফিস—যেখান থেকেই হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করুন না কেন, নতুন Noise Suppression ফিচার কলের ওপারে আপনার কণ্ঠস্বরকে আরও স্পষ্ট করে তুলতে পারে। কলিং পরিষেবাকে আরও স্বচ্ছন্দ ও ব্যবহারযোগ্য করে তুলতেই হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন পদক্ষেপ।



