নজরবন্দি ব্যুরো: হার মানতে রাজি নয় ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC)। সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে কুয়েতের শক্তিশালী আল-আরাবি (Al Arabi SC)-র বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলে জয় ছিনিয়ে নিল লাল-হলুদ। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের শেষ মুহূর্তে জয় গুপ্তর গোলে সমতা ফেরানোর পর অতিরিক্ত সময়ে কার্যত ঝড় তুলল ইস্টবেঙ্গল।
এশীয় মঞ্চে ইস্টবেঙ্গলের জন্য রাতটা তাই শুধুই একটি জয় নয়, প্রত্যাবর্তনের এক দুর্দান্ত গল্প। ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে ০-১ পিছিয়ে থাকা দলই অতিরিক্ত সময়ে তিন গোল করে ম্যাচের রং বদলে দিল। মহম্মদ রশিদ (Mohammed Rashid), ডেভিড লালহ্লানসাঙ্গা (David Lalhlansanga) এবং রোহিত দানুদের (Rohit Danu) দাপটে ৪-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নিল আন্তোনিও লোপেস হাবাসের (Antonio Lopez Habas) দল।
ম্যাচের প্রথমার্ধে দু’দলই একাধিকবার আক্রমণে উঠলেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি। ফলে বিরতিতে স্কোরলাইন ছিল ০-০। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ছবিটা বদলে যায়। আল-আরাবি গোল করে এগিয়ে যাওয়ার পর চাপ বাড়তে থাকে ইস্টবেঙ্গলের উপর।
সময় যত গড়াচ্ছিল, ততই মনে হচ্ছিল এশীয় প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যেতে পারে লাল-হলুদ। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার আগে পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার যে মানসিকতা এই দলের, ফের তার প্রমাণ মিলল।
৯০ মিনিটে সেই প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। জয় গুপ্তর গোলে ম্যাচে সমতা ফেরায় ইস্টবেঙ্গল। ১-১ স্কোরলাইন নিয়ে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। তখনই যেন বদলে গেল পুরো ম্যাচের চিত্রনাট্য।
অতিরিক্ত সময়ের ১০৮ মিনিটে অধিনায়ক মহম্মদ রশিদের গোলে প্রথম বার এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। মাঝমাঠে তাঁর নিয়ন্ত্রণ এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করার ক্ষমতাই তখন লাল-হলুদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়।
এরপর ১১৭ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান পরিবর্ত হিসেবে নামা ডেভিড লালহ্লানসাঙ্গা। ৩-১ হয়ে যাওয়ার পর আর ম্যাচে ফেরার মতো জায়গায় ছিল না আল-আরাবি। অতিরিক্ত সময়ের সংযোজিত সময়ে রোহিত দানু চতুর্থ গোল করে ইস্টবেঙ্গলের জয়কে আরও বড় করে দেন।
শেষ পর্যন্ত ৪-১। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে যে দলটি ০-১ পিছিয়ে ছিল, সেই দলই অতিরিক্ত সময় শেষ হওয়ার আগে তিন গোল করে ম্যাচ নিজেদের পকেটে পুরে ফেলল। যুবভারতীর গ্যালারিতে তখন উচ্ছ্বাসের ঢেউ।
এই জয়ের গুরুত্ব শুধু স্কোরলাইনে নয়। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২ (AFC Champions League Two)-এর প্রিলিমিনারি পর্বের বাধা পেরিয়ে এবার মূল পর্বে খেলবে ইস্টবেঙ্গল। ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির জন্য মহাদেশীয় মঞ্চে এটি নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য।
আর হাবাসের জন্যও এই জয় আলাদা তাৎপর্যের। ম্যাচের কঠিন সময়ে দলকে শান্ত রাখা, পিছিয়ে পড়ার পরেও আক্রমণের ধার বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত সময়ে প্রতিপক্ষের উপর চাপ ধরে রাখা—সব মিলিয়ে স্প্যানিশ কোচের অভিজ্ঞতার ছাপ স্পষ্ট।
আল-আরাবির বিরুদ্ধে এই জয় ইস্টবেঙ্গলকে শুধু পরের ধাপে তুলে দিল না, নতুন মরসুমের শুরুতেই লাল-হলুদ সমর্থকদের সামনে বড় বার্তাও রেখে গেল—শেষ বাঁশি না বাজার পর্যন্ত এই দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষ হয়ে যায় না। যুবভারতীর রাত তাই শেষ হল ৪-১-এর জয় আর এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর মূল পর্বের টিকিট হাতে নিয়ে।



