‘আসন পুনর্বিন্যাস হতে দেব না’, ৫৪৩ আসনেই অনড় বিজয় সরকার, তামিলনাড়ু বিধানসভায় প্রস্তাব

লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাসের বিরোধিতা করে তামিলনাড়ু বিধানসভায় প্রস্তাব পেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। ৫৪৩ আসন স্থায়ী রাখা ও ২০২৯ থেকেই মহিলা সংরক্ষণের দাবি সরকারের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন (Delimitation) নিয়ে এবার সরাসরি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিল তামিলনাড়ুর বিজয় সরকার। বুধবার তামিলনাড়ু বিধানসভায় প্রস্তাব পেশ করে মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয় (C. Joseph Vijay) স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বাড়িয়ে দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কমতে দেওয়া যাবে না। তাঁর সরকারের দাবি, লোকসভার মোট আসন স্থায়ী ভাবে ৫৪৩ রাখা হোক এবং বর্তমান প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য বজায় থাকুক।

বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলাগা ভেত্ত্রি কাজাগম (TVK) সরকার এর আগে নিট ও এফসিআরএ-সংক্রান্ত প্রস্তাব বিধানসভায় এনেছিল। তার পরই বুধবার লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে এই প্রস্তাব সামনে আনা হয়। মূল আপত্তি জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বণ্টনের সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে। তামিলনাড়ু সরকারের যুক্তি, যে রাজ্যগুলি দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়া উচিত নয়।

বিধানসভায় বিজয়ের বক্তব্য, তামিলনাড়ু-সহ দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্য কেন্দ্রের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছে। কিন্তু সেই সাফল্যের ফল যদি সংসদে আসন কমে যাওয়ার আশঙ্কা হয়, তা হলে তা দক্ষিণের রাজ্যগুলির সঙ্গে অন্যায় হবে। তাই ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধিত্বে যাতে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কেন্দ্রের বলেই দাবি করা হয়েছে।

তামিলনাড়ুর প্রস্তাবে চারটি নির্দিষ্ট দাবি রাখা হয়েছে। প্রথমত, লোকসভার মোট আসন সংখ্যা স্থায়ী ভাবে ৫৪৩ রাখা। দ্বিতীয়ত, বর্তমান প্রতিনিধিত্বের অনুপাতের ভিত্তিতে রাজ্যগুলির মধ্যে আসন বণ্টনের ব্যবস্থা আপাতত স্থগিত রাখা। তৃতীয়ত, জনসংখ্যা ও রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্বের মধ্যে বর্তমান ২.২:১ অনুপাত বজায় রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

চতুর্থ দাবিটি মহিলাদের সংরক্ষণ নিয়ে। তামিলনাড়ু সরকারের প্রস্তাব, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বর্তমান ৫৪৩টি আসনের ভিত্তিতেই মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করা হোক। অর্থাৎ আসন পুনর্বিন্যাসের জন্য অপেক্ষা না করে বর্তমান লোকসভা কাঠামোর মধ্যেই মহিলা সংরক্ষণ চালু করার পক্ষে সওয়াল করেছে বিজয় সরকার।

বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজয় বলেন, মহিলা সংরক্ষণ কোনও ‘ছাড়’ নয়, এটি সামাজিক ন্যায়ের বিষয়। তামিলনাড়ুতে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ভোটদানের হার বেশি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাই ২০২৯ সালের নির্বাচন থেকেই ৫৪৩টি আসনের ভিত্তিতে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে দক্ষিণ ভারতের উদ্বেগ নতুন নয়। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে তুলনামূলক ভাবে সফল দক্ষিণের রাজ্যগুলির আশঙ্কা, ভবিষ্যতে শুধুমাত্র জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বণ্টন হলে উত্তর ভারতের জনবহুল রাজ্যগুলির আসন বাড়তে পারে এবং দক্ষিণের রাজ্যগুলির মোট প্রতিনিধিত্বের অনুপাত কমে যেতে পারে। কেন্দ্র অবশ্য অতীতে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত আসন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সব রাজ্যের প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য বজায় রাখার ব্যবস্থা থাকবে।

এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ২০২৬-এর পরবর্তী ডিলিমিটেশন এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন। মহিলা সংরক্ষণও এই আলোচনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে যুক্ত, কারণ বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোয় মহিলা সংরক্ষণের কার্যকর হওয়ার সঙ্গে ডিলিমিটেশন ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার যোগ রয়েছে। ফলে তামিলনাড়ুর এই প্রস্তাব শুধু একটি রাজ্যের রাজনৈতিক অবস্থান নয়, আগামী লোকসভা নির্বাচনের প্রতিনিধিত্বের কাঠামো নিয়েও বৃহত্তর জাতীয় বিতর্ককে আরও তীব্র করতে পারে।

তামিলনাড়ু বিধানসভায় প্রস্তাব পেশের মাধ্যমে বিজয় সরকার এখন কেন্দ্রের সামনে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। ৫৪৩টি আসন অপরিবর্তিত রাখা, বর্তমান প্রতিনিধিত্বের অনুপাত বজায় রাখা এবং ২০২৯ সাল থেকেই মহিলা সংরক্ষণ চালুর দাবি কতটা গ্রহণযোগ্যতা পায়, এখন নজর থাকবে সেই দিকেই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন