আজকের আবহাওয়া আপডেট অনুযায়ী কলকাতা-সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গে ফের দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর (India Meteorological Department – IMD)। সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত এবং মৌসুমী অক্ষরেখার জোড়া প্রভাবে শনিবার দিনের বিভিন্ন সময়ে দফায় দফায় বৃষ্টি হলেও সকাল ১১টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। আজকের আবহাওয়া পরিস্থিতির জেরে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি-সহ একাধিক জেলায় জল জমা, বজ্রপাত এবং যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভোর থেকেই কলকাতার আকাশ থাকবে মেঘলা। দিনের শুরুতে কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা বৃষ্টি হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়ার পরিবর্তন হবে দ্রুত। দুপুরের আগেই শহর ও সংলগ্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির দাপট শুরু হতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই সময় বজ্রপাতের ঝুঁকিও সবচেয়ে বেশি থাকবে।
ঘণ্টাভিত্তিক আজকের আবহাওয়া পূর্বাভাস বলছে, ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তবে সকাল ১১টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভারী বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের পর বৃষ্টির তীব্রতা কমলেও আকাশ মেঘলা থাকবে এবং রাতে আংশিক মেঘলা আকাশ দেখা যেতে পারে।
আজ কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ প্রায় ৮৪ শতাংশ হওয়ায় বৃষ্টির মাঝেও ভ্যাপসা গরম অনুভূত হবে। অনুভূত তাপমাত্রা বা ‘রিয়েল ফিল’ ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া আজ সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে উপকূল ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম-এ দুপুর পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। নিচু এলাকায় জল জমা, বজ্রপাত এবং স্থানীয়ভাবে ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর-এ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। সমুদ্র উপকূল সংলগ্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে। অন্যদিকে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া-র কয়েকটি এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম বর্ধমান-এ বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে বৃষ্টির ফাঁকেও আর্দ্রতার কারণে অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকবে।
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে কিছুটা শান্ত থাকলেও মেঘলা আকাশ এবং দফায় দফায় বৃষ্টি চলবে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার-এ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মালদা, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর-এ দুপুর বা বিকেলের দিকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ এক-দু’পশলা বৃষ্টি হতে পারে।
আজ দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় প্রায় ১৩ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে। তবে উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার দাপট আরও বাড়তে পারে। দিঘা, মন্দারমণি ও বকখালি উপকূলে সমুদ্র উত্তাল থাকায় মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে আজকের আবহাওয়া অনুযায়ী দিনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় সকাল ১১টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট। এই সময়ে অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনো, বজ্রপাতের সময় গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া এবং খোলা মাঠ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। দিনের শেষে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রাত পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে।



