অগস্ট ২০২৬-এর মাঝামাঝি সময়কে ঘিরে জ্যোতিষশাস্ত্রে তৈরি হচ্ছে একাধিক গ্রহের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান। ১৭ অগস্ট সূর্যের সিংহ রাশিতে প্রবেশ, মীন রাশিতে শনির বক্রি অবস্থান এবং কর্কটে বৃহস্পতির অবস্থান—এই গ্রহগত পরিবর্তন কয়েকটি রাশির জাতক-জাতিকার জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে বলে জ্যোতিষীদের মত। বিশেষ করে কর্মজীবন, অর্থ, ব্যবসা ও সম্পত্তির ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে।
অযোধ্যার জ্যোতিষী পণ্ডিত কল্কিরামের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অগস্ট মাসে একাধিক গ্রহের অবস্থান বদলানোর ফলে কিছু রাশির জীবনে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। চাকরি, ব্যবসা কিংবা আর্থিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তাঁর দাবি।
জ্যোতিষীয় গণনা অনুযায়ী, অগস্টে সূর্য প্রথমে কর্কটে অবস্থান করে ১৭ তারিখে নিজের রাশি সিংহে প্রবেশ করবেন। অন্য দিকে শনি মীন রাশিতে বক্রি অবস্থানে থাকবেন। রাহু থাকবে কুম্ভে এবং কেতু সিংহে। মঙ্গল থাকবে কন্যায়। বুধের গতিতেও পরিবর্তন দেখা যাবে বলে জ্যোতিষীদের ব্যাখ্যা।
শুক্রের অবস্থানেও অগস্টে একাধিক পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। ২১ অগস্টের পর বুধ ও শুক্রের অবস্থানকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মী নারায়ণ রাজযোগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। জ্যোতিষশাস্ত্রে এই ধরনের যোগকে অর্থ, সম্পর্ক ও সামাজিক ক্ষেত্রে শুভ ফলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
১৭ অগস্ট সূর্য সিংহে প্রবেশ করার পর কেতুর সঙ্গে তার সংযোগও তৈরি হবে। জ্যোতিষশাস্ত্রের ভাষায় সূর্য-কেতুর এই অবস্থানকে গ্রহণযোগ বলা হয়। তবে এর প্রভাব ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে বলে মনে করেন জ্যোতিষীরা। এই গ্রহগত পরিবর্তনের মধ্যেই কোন পাঁচ রাশির জন্য অগস্ট তুলনামূলক ভাবে শুভ হতে পারে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ।
সিংহ
সিংহ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য অগস্টের দ্বিতীয়ার্ধ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে জ্যোতিষীয় ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে। ১৭ অগস্ট সূর্য নিজের রাশিতে প্রবেশ করায় আত্মবিশ্বাস বাড়তে পারে। কর্মক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ এবং নতুন দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
যাঁরা নতুন চাকরির সন্ধান করছেন, তাঁদের সামনে নতুন সুযোগ আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় হতে পারে। শনির অবস্থান দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও স্থিরতার দিকে মনোযোগ বাড়াতে পারে বলে জ্যোতিষীদের মত।
ধনু
ধনু রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য অগস্টে কর্মজীবন, শিক্ষা ও ব্যবসায় ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে মনে করা হয়। শুক্রের অবস্থান থেকে তৈরি যোগ আর্থিক ও ব্যক্তিগত জীবনে নতুন সুযোগ আনতে পারে।
চাকরি বদলের পরিকল্পনা থাকলে নতুন প্রস্তাব আসতে পারে। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও মনোযোগ ও সাফল্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জ্যোতিষীয় ব্যাখ্যা। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে।
মেষ
মেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য অগস্টে একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও লাভের সুযোগ তৈরি হতে পারে। শনির সাড়ে সাতির প্রভাব থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে তার চাপ তুলনামূলক ভাবে সামলে ওঠার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে বলে জ্যোতিষীদের মত।
পুরনো বিনিয়োগ থেকে আর্থিক লাভের সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। পাশাপাশি আয়ের নতুন উৎস তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কোনও কাজও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
তুলা
তুলা রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য অগস্টকে সম্পর্ক ও আর্থিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখছেন জ্যোতিষীরা। রাশির অধিপতি শুক্রের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে লক্ষ্মী নারায়ণ ও গজলক্ষ্মী যোগের প্রভাব তৈরি হতে পারে বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
অবিবাহিতদের জীবনে নতুন সম্পর্ক বা বিয়ের প্রস্তাব আসতে পারে। বিবাহিতদের ক্ষেত্রেও পুরনো ভুল বোঝাবুঝি কমার সম্ভাবনা রয়েছে। আর্থিক দিক থেকে আগের তুলনায় স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে বলে জ্যোতিষীয় মত।
মকর
মকর রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য শনির বক্রি অবস্থান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিকে মকর রাশির অধিপতি হিসেবে ধরা হয়। ফলে শনির অবস্থান পরিবর্তনের প্রভাব কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে পড়তে পারে।
চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে দায়িত্ব বাড়ার পাশাপাশি স্থায়িত্ব আসতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে চলা কোনও সমস্যা থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জ্যোতিষীয় ব্যাখ্যা। তবে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে শুধুমাত্র রাশিফলের উপর নির্ভর না করে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উচিত।
সব মিলিয়ে, অগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে সূর্য, শনি, বৃহস্পতি, শুক্র, বুধ এবং অন্যান্য গ্রহের অবস্থানকে কেন্দ্র করে জ্যোতিষমহলে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসছে। সিংহ, ধনু, মেষ, তুলা ও মকর—এই পাঁচ রাশির জন্য সময়টি তুলনামূলক ভাবে শুভ হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে জ্যোতিষশাস্ত্রের এই ফলাফল বিশ্বাস ও গণনাভিত্তিক ব্যাখ্যা; বাস্তব জীবনের অর্থ, চাকরি, ব্যবসা বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও বাস্তব তথ্যকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।



