রথযাত্রায় ৬০ কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান, শ্রাবণে জলযাত্রীদের জন্য বিশেষ পরিষেবার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

রথযাত্রা ও শ্রাবণ মাসের ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে একাধিক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের ৬০টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা, ৭৫টি মেলায় সেবাকেন্দ্র এবং জলযাত্রীদের জন্য বিশেষ পরিষেবার ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রথযাত্রা অনুদান নিয়ে বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, পশ্চিমবঙ্গের ৬০টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে সরকারি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি রথযাত্রা ও শ্রাবণ মাসে জলযাত্রীদের জন্য রাজ্যজুড়ে একাধিক বিশেষ পরিষেবা চালুর কথাও ঘোষণা করেন তিনি। সরকারের দাবি, ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পুণ্যার্থীদের সুবিধা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে আয়োজিত হয়ে আসা ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে প্রথম পর্যায়ে এই অনুদান দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, এটি শুধুমাত্র আর্থিক সহায়তা নয়, রাজ্য সরকারের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রতীক। প্রথম বছরে তালিকা তৈরিতে কোনও ত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। আগামী বছর থেকে আরও বিস্তৃত ও নির্ভুল তালিকা তৈরি করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি রথযাত্রা কমিটিগুলিকে অনুরোধ করেন, সরকারি অনুদানের অর্থ দিয়ে বিশেষ করে কাঠের তৈরি পুরনো রথগুলির সংরক্ষণ ও সংস্কারের কাজ করা হোক। ঐতিহ্য রক্ষার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেও তাঁর আশা।

রথযাত্রাকে ঘিরে পূর্ববর্তী সরকারের ভূমিকার সমালোচনাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগে প্রশাসনের ভূমিকা মূলত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমান সরকার উন্নয়ন ও ঐতিহ্য—দুই ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দিয়ে উৎসবে সরাসরি অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ৭৫টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা মেলায় সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কেন্দ্রগুলিতে পুণ্যার্থীদের জন্য প্রাথমিক পরিষেবার ব্যবস্থা থাকবে। পুরসভা, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট রথযাত্রা কমিটিগুলিও এই উদ্যোগে অংশ নেবে।

শ্রাবণ মাসে জলযাত্রীদের সুবিধার জন্যও বিশেষ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত প্রতি পাঁচ কিলোমিটার অন্তর সেবাকেন্দ্র তৈরি করা হবে। এছাড়া তারকেশ্বর ধামের পরিকাঠামো উন্নয়নে ১৫ কোটি টাকার প্রকল্পে কাজ চলছে।

সরকার জলযাত্রীদের পরিষেবার জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র—তারকেশ্বর, জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির এবং ভুটান সীমান্ত সংলগ্ন জয়ন্তী এলাকার একটি মন্দিরকে বেছে নিয়েছে। এই কেন্দ্রগুলিতে পুলিশ সহায়তা, অস্থায়ী স্বাস্থ্য শিবির, পানীয় জল, ওআরএস এবং বিশ্রামের ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এছাড়াও তিনি জানান, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার জলযাত্রীদের উপর হেলিকপ্টার থেকে গোলাপের পাপড়ি বর্ষণ করা হবে। আগামী ১৪ জুলাই তিনি নিজেও তারকেশ্বরে উপস্থিত থাকবেন বলেও ঘোষণা করেন।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যের বাজেটে ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’-এর জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মঠ, মন্দির এবং ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থানের সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারত সেবাশ্রম সংঘ পরিচালিত হাসপাতালগুলিকে আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আনা এবং স্বামী বিবেকানন্দের জন্মস্থান সিমলা স্ট্রিটের উন্নয়নে ৫ কোটি টাকার কর্পাস ফান্ড দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন