ডক্টর’স ডে-র মঞ্চ থেকেই রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিধাননগর হাসপাতাল (Bidhannagar Hospital)-এর নতুন নামকরণ থেকে শুরু করে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য ‘জননী’ পোর্টাল চালু এবং স্বাস্থ্য ভবনের কন্ট্রোল রুম উদ্বোধন—একদিনেই স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে একাধিক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। পাশাপাশি পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
ডা. বিধানচন্দ্র রায় (Dr. Bidhan Chandra Roy)-এর জন্মবার্ষিকীতে রাজ্য সরকার ঘোষণা করে, বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে রাখা হচ্ছে ডা. বিধানচন্দ্র রায় মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল। চিকিৎসক দিবসের সরকারি অনুষ্ঠান থেকেই এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও সহজলভ্য করতে এদিন চালু করা হয় ‘জননী’ (Janani Portal) পোর্টাল। প্রশাসনের দাবি, এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গর্ভবতী মহিলা ও নবজাতকের জন্য নির্ধারিত সময়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া আরও সহজ হবে এবং পরিষেবার উপর নজরদারিও জোরদার করা যাবে।
এছাড়াও সরকারি হাসপাতালগুলির পরিষেবার মান ও প্রশাসনিক তৎপরতা পর্যবেক্ষণের জন্য স্বাস্থ্য ভবন (Swasthya Bhavan)-এ একটি আধুনিক কন্ট্রোল রুমের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের দাবি, এই কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের পরিষেবার উপর রিয়েল-টাইম নজরদারি সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, “যেখানেই হাত দিচ্ছি, দেখছি বিগত সরকারের ধ্বংসলীলা।” স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এমন পরিস্থিতি কখনও কাম্য ছিল না।
বক্তৃতায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু (Jyoti Basu)-কেও স্মরণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। ডক্টর’স ডে-র অনুষ্ঠানে একদিকে যেমন স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন উদ্যোগের ঘোষণা করা হয়, অন্যদিকে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও নতুন মাত্রা পায়। আগামী দিনে এই ঘোষণাগুলির বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজ্যবাসীর।



