ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে নিয়ে সমালোচনা থামছেই না। কিন্তু যতই প্রশ্ন উঠুক, মাঠে নেমে বারবার উত্তর দিচ্ছেন সিআর সেভেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে শুধু পর্তুগালকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যেতে সাহায্য করলেন না, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও যোগ করলেন নতুন অধ্যায়। হিউস্টনের মাঠে আবারও প্রমাণ করলেন— রোনাল্ডো এখনও বড় ম্যাচের নায়ক।
টেক্সাসের হিউস্টন স্টেডিয়ামে গ্রুপ কে-র ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় পর্তুগালকে। ম্যাচের ৬ মিনিটেই জোয়াও ক্যানসেলোর নিখুঁত ক্রস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। সেই গোলের মাধ্যমেই তিনি বিশ্ব ফুটবলের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি আলাদা বিশ্বকাপে গোল করার নজির গড়েন।
রোনাল্ডোর গোলের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই দ্বিতীয় গোল হজম করে উজবেকিস্তান। ১৭ মিনিটে একটি চতুর ফ্রি-কিক পরিকল্পনা থেকে গোল করেন নুনো মেন্ডেস। সবাই যখন ভেবেছিলেন ফ্রি-কিকটি নেবেন রোনাল্ডো, ঠিক তখনই বল ছেড়ে দেন সতীর্থকে। দুর্দান্ত শটে জাল কাঁপিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন মেন্ডেস।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়লেও লড়াই ছাড়েনি উজবেকিস্তান। ১৯ মিনিটে শেরজোদ নাসরুল্লায়েভের শক্তিশালী শট দুর্দান্ত দক্ষতায় বাঁচিয়ে দেন পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কোস্তা। সেই সেভ ম্যাচের মোড় ঘুরতে দেয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধেও পর্তুগালের আধিপত্য বজায় থাকে। ম্যাচের শেষভাগে ব্রুনো ফার্নান্দেজের নিখুঁত পাস থেকে আবারও গোল করেন রোনাল্ডো। ডান দিক থেকে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১০-এ পৌঁছে দেন পর্তুগাল অধিনায়ক।
রবার্তো মার্টিনেজের দল পুরো ম্যাচেই উজবেকিস্তানের উপর চাপ বজায় রাখে। জোয়াও ফেলিক্স-সহ একাধিক আক্রমণভাগের ফুটবলার গোলের সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান এখন পর্যন্ত আর বাড়েনি। তবুও ৩-০ ব্যবধানের এগিয়ে থাকা পর্তুগালকে নকআউট পর্বের দিকে একধাপ এগিয়ে দিল।
বিশ্বকাপের শুরুতে কঙ্গোর বিরুদ্ধে ড্রয়ের পর রোনাল্ডোর ফর্ম নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, এই ম্যাচে তার জোরালো জবাব মিলেছে। বয়স ৪১ ছুঁলেও গোলের ক্ষুধা এবং বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার ক্ষমতা যে এখনও অটুট, তা আরও একবার দেখিয়ে দিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।



