টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দার্জিলিং ও কালিম্পং-সহ উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। একাধিক জায়গায় ভূমিধস, রাস্তা ভেঙে যাওয়া এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধির ঘটনায় পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে পর্যটকদের জন্য বিশেষ হেল্পলাইন চালু করেছে প্রশাসন ও পর্যটন দপ্তর।
দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার বিভিন্ন অংশে ভারী বর্ষণের কারণে সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। শিলিগুড়ি-দার্জিলিং এবং শিলিগুড়ি-মিরিক রুটের একাধিক জায়গায় ধস নামার খবর পাওয়া গিয়েছে। ফলে পর্যটকদের অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে পর্যটকদের সহায়তার জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে পর্যটকরা টোল-ফ্রি নম্বর 1800-2121-655 এবং 0353-2513986 নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় নির্দেশিকা মেনে চলারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাত শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। পাহাড় ও সংলগ্ন সমতল এলাকায় প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর জেরে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন নদীতে দ্রুত জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বালাসন নদীকে ঘিরে। প্রবল স্রোতের জেরে ইতিমধ্যেই কার্শিয়াংয়ের দুধিয়া এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেসে গিয়েছে। এর ফলে স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড়সড় প্রভাব পড়েছে।
অন্যদিকে, খারসাং থেকে শিলিগুড়িগামী তিন লেনের রাস্তার একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে। ফলে পাহাড়ে যাতায়াতকারী যানবাহনের চলাচলে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হয়েছে। প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে এবং দ্রুত মেরামতির কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন বৃষ্টির দাপট আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ২০ জুন শনিবার উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণে নতুন করে ভূমিধস, জল জমা এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আবহবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প উত্তরবঙ্গের দিকে প্রবেশ করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সড়কপথে দীর্ঘ ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং প্রশাসনের জারি করা নির্দেশিকা মেনে চলাই নিরাপদ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



