মাত্র ২০ দিনেই তৈরি মিরিকের দুধিয়া বেইলি ব্রিজ, নবান্ন থেকে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী

বালাসন নদীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ২০ দিনের মধ্যেই তৈরি হল মিরিকের দুধিয়া বেইলি ব্রিজ। নবান্ন থেকে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দার্জিলিং (Darjeeling) জেলার মিরিক (Mirik)-এর সঙ্গে শিলিগুড়ি (Siliguri)-র সড়ক যোগাযোগ পুনরুদ্ধারে বড় সাফল্য। প্রবল বৃষ্টি ও বালাসন (Balason) নদীর ভয়াবহ স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত দুধিয়া বেইলি ব্রিজ (Dudhia Bailey Bridge) মাত্র ২০ দিনের মধ্যেই পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। বুধবার নবান্ন (Nabanna) থেকে ভার্চুয়ালি এই সেতুর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এর ফলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কাটিয়ে ফের স্বাভাবিক হল পাহাড়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নবান্ন থেকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল (Manoj Agarwal)। অন্যদিকে মিরিকে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ রাজু বিস্তা (Raju Bista)-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। নতুন সেতু চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য সেটি খুলে দেওয়া হয়েছে।

গত জুন মাসে পাহাড়ে টানা অতিবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে বালাসন নদীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যায়। প্রবল স্রোতে দুধিয়া এলাকার অস্থায়ী হিউমপাইপ সেতুর একাংশ ভেসে যায়। ফলে দুধিয়া হয়ে ১২ নম্বর রাজ্য সড়ক সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে এবং শিলিগুড়ির সঙ্গে মিরিকের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের তরফে ভারতীয় সেনাবাহিনীর (Indian Army) কাছে দ্রুত একটি বেইলি ব্রিজ নির্মাণের আবেদন জানানো হয়। নদীর জল কিছুটা কমতেই সেনাবাহিনী যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুর নির্মাণ শেষ করে যান সেনা ইঞ্জিনিয়াররা।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতু নির্মাণের জন্য সেনাবাহিনীর জওয়ানদের অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দুর্যোগের পর দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনীর এই ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাংসদ রাজু বিস্তাও দ্রুত সেতু নির্মাণ এবং অল্প সময়ের মধ্যে উদ্বোধনের জন্য রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তাঁর মতে, নতুন বেইলি ব্রিজ চালু হওয়ায় মিরিক, দুধিয়া এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। পাশাপাশি পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জরুরি পরিষেবাও স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে।

২০ দিনের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ শেষ হওয়ায় পাহাড়বাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্ষার মাঝেই দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন