রাতে ঘুম না হলে শরীরে কী ক্ষতি হচ্ছে জানেন? চিকিৎসকদের নতুন সতর্কবার্তা

রাতে কম ঘুম হলে বাড়তে পারে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, মানসিক চাপ ও স্মৃতিশক্তির সমস্যা। পর্যাপ্ত ঘুমের গুরুত্ব নিয়ে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাতে ঠিকমতো ঘুম না হলে শুধু ক্লান্তিই নয়, শরীরের ভিতরে নীরবে বাড়তে পারে একাধিক গুরুতর সমস্যা। সাম্প্রতিক গবেষণা এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ বলছে, দীর্ঘদিন ঘুমের অভাব হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক চাপ এমনকি স্মৃতিশক্তির উপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। আধুনিক ব্যস্ত জীবনে রাত জাগা এখন অভ্যাসে পরিণত হলেও, তার মূল্য শরীরকে ধীরে ধীরে চুকোতে হচ্ছে বলেই সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। কিন্তু কাজের চাপ, মোবাইল স্ক্রিনে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটানো এবং মানসিক উদ্বেগের কারণে অনেকেই পর্যাপ্ত ঘুম পাচ্ছেন না। এর ফলেই শরীরে নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

চিকিৎসকদের দাবি, ঘুম কম হলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কের উপর। মনোযোগ কমে যাওয়া, খিটখিটে মেজাজ, ভুলে যাওয়ার প্রবণতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। দীর্ঘদিন এই সমস্যা চলতে থাকলে উদ্বেগ ও অবসাদের ঝুঁকিও বাড়ে।

শুধু মানসিক নয়, শারীরিক সমস্যাও বাড়তে পারে। ঘুমের অভাবে শরীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যার ফলে উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে।

অনেক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাঁরা নিয়মিত কম ঘুমান, তাঁদের মধ্যে ডায়াবেটিস এবং স্থূলতার ঝুঁকিও বেশি থাকে। কারণ ঘুমের অভাব শরীরের metabolism বা বিপাকক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। ফলে ওজন দ্রুত বাড়তে পারে।

এছাড়া ঘুম কম হলে চোখের নিচে কালচে দাগ, ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া এবং দ্রুত বয়সের ছাপ পড়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। চিকিৎসকদের মতে, রাতে শরীরের কোষ পুনর্গঠনের কাজ সবচেয়ে বেশি হয়। পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পেলে সেই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানাচ্ছেন, নিয়মিত রাত জাগা কর্মক্ষমতার উপরও সরাসরি প্রভাব ফেলে। অফিসে কাজের ভুল বাড়ে, মনোযোগ কমে যায় এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে যায়। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো বা ভারী যন্ত্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ঘুমের অভাব অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।

তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, রাতে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার কমানো উচিত। একইসঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যাওয়া, ক্যাফেইন কম খাওয়া এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাও জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো ঘুম কোনও বিলাসিতা নয়, বরং সুস্থ শরীর ও মনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কারণ শরীরের ক্লান্তি কাটানো থেকে শুরু করে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখা— সব কিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে পর্যাপ্ত ঘুম।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন