৫০ সেকেন্ডে খুন! লাল গাড়ি-সহ ৮ আততায়ী, শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠকে হত্যায় নতুন চাঞ্চল্য

চন্দ্রনাথ রথ খুনে নতুন মোড়। সিসিটিভিতে ধরা পড়ল রহস্যময় লাল গাড়ি, তদন্তকারীদের অনুমান গোটা অপারেশনে জড়িত ছিল অন্তত ৮ আততায়ী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে তদন্তে। প্রথমে মনে করা হয়েছিল, কয়েক জন আততায়ী মিলেই হামলা চালিয়েছে। কিন্তু এখন তদন্তকারীদের অনুমান, গোটা অপারেশনে অন্তত ৮ জন জড়িত ছিল। শুধু সিলভার রঙের গাড়ি নয়, খুনের ঘটনায় উঠে এসেছে রহস্যময় একটি লাল গাড়ির হদিশও। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ মনে করছে, এই হত্যাকাণ্ড ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং পেশাদার অপরাধচক্রের কাজ।

তদন্তকারীদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে সিলভার রঙের গাড়িটির পিছনেই একটি লাল গাড়ি ঢুকছে। সেই গাড়িতেও কয়েক জন আততায়ী ছিল বলে অনুমান। খুনের পর দু’টি বাইকে চার জন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। বাকিরা পালায় ওই লাল গাড়িতে করেই। যদিও এখনও পর্যন্ত সেই গাড়ির খোঁজ মেলেনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাদিন দুপুর আড়াইটে থেকেই সিলভার গাড়িটি ১১ নম্বর রেল গেটের কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও সেটিকে ওই এলাকাতেই দেখা যায়। পরে সেই এলাকা থেকেই উদ্ধার হয় দ্বিতীয় বাইকটি।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত বাইক দু’টিই চোরাই। গতকাল উদ্ধার হওয়া একটি বাইকের মালিক জানিয়েছেন, প্রায় দু’মাস আগে তাঁর বাইক চুরি গিয়েছিল। এখন পুলিশ খতিয়ে দেখছে, বাজেয়াপ্ত হওয়া বাইকগুলির কলকাতায় কোনও গতিবিধি আগে ছিল কি না।

চন্দ্রনাথ রথকে নজরদারি করা হয়েছিল কি না, সেটাও এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বুধবার রাতে তিনি যখন নিজাম প্যালেস থেকে বের হন, তখন কোনও গাড়ি বা বাইক তাঁকে অনুসরণ করছিল কি না, তা জানতে কলকাতা পুলিশের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। বিধাননগর-সহ একাধিক এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই মামলায় বড় সূত্র পেতে ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশে গিয়েছে তদন্তকারীদের একটি দল। সিলভার গাড়ির মালিক শিলিগুড়ির উইলিয়াম যোসেফ পুলিশকে জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে তিনি ওএলএক্স-এ গাড়ি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। সেই সূত্রে উত্তরপ্রদেশ থেকে এক ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তদন্তকারীদের অনুমান, সেই সূত্রেই অপরাধীরা গাড়িটি ব্যবহার করে থাকতে পারে।

পুলিশের দাবি, চন্দ্রনাথ রথকে হত্যার গোটা পরিকল্পনাই ছিল অত্যন্ত নিখুঁত। ভিন রাজ্যের পেশাদার দুষ্কৃতীদের যোগ থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। ইতিমধ্যেই একাধিক পেশাদার অপরাধীর গতিবিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনকি ওড়িশার জেলে থাকা কুখ্যাত দুষ্কৃতী সুবোধ সিংহ সম্পর্কেও খোঁজ নেওয়া শুরু হয়েছে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য, পুরো হত্যাকাণ্ডটি ঘটে মাত্র ৫০ সেকেন্ডে। রাত ১০টা নাগাদ শেখ মুজিবর রোডে প্রথমে ঢোকে সিলভার গাড়ি। কয়েক সেকেন্ড পরে সেখানে পৌঁছয় চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি। তারপরই শুরু হয় অপারেশন। একটি মেডিক্যাল ফ্যাক্টরির বাইরে লাগানো সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে সেই ভয়ঙ্কর দৃশ্য। রাত ১০টা ৯ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে দুই আততায়ীকে বাইকে চেপে যশোর রোডের দিকে পালাতে দেখা যায়।

তদন্তকারীদের মতে, এত অল্প সময়ে নিখুঁত ভাবে অপারেশন চালানো থেকে স্পষ্ট, এই হামলার পিছনে ছিল সুপরিকল্পিত ও প্রশিক্ষিত চক্র। ফলে চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্ত এখন আরও জটিল এবং রহস্যঘেরা হয়ে উঠছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন