ভোটের মুখে বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে নাটকীয় পালাবদল। রাহুল গান্ধী-র সভার আবহ কাটতে না কাটতেই কংগ্রেস শিবিরে বড় ধাক্কা—প্রদেশ কংগ্রেস সম্পাদক আসিফ ইকবালের দলবদল। সরাসরি শাসক শিবিরে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, নির্বাচনের আগে মুর্শিদাবাদে সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। এই যোগদান শুধু একজন নেতার সিদ্ধান্ত নয়, বরং ভোটের আগে সংগঠনের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
বুধবার নববর্ষের বিকেলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পৈলানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা তুলে নেন আসিফ। এর মধ্য দিয়ে কংগ্রেস ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখান তিনি।
রাজনৈতিক পরিবার থেকেই উঠে আসা আসিফ ইকবাল ফরাক্কার প্রভাবশালী নেতা। প্রয়াত পাঁচবারের কংগ্রেস বিধায়ক মইনুল হকের ভাইপো তিনি। ২০১৮ সালে মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসের হয়ে জয়ী একমাত্র জেলা পরিষদ সদস্য ছিলেন আসিফ। পাশাপাশি প্রদেশ কংগ্রেস সম্পাদক এবং রাজ্য যুব কংগ্রেসের সহ-সভাপতি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
তবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট বণ্টনই মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ফরাক্কা কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েও শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের প্রতীক পাননি তিনি। তাঁর জায়গায় প্রার্থী করা হয় মাহাতাব শেখকে। এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়েন আসিফ। প্রকাশ্যেই দলের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তোলেন তিনি।
আসিফের কথায়, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা সত্ত্বেও তিনি কংগ্রেসে ছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি তাঁকে অন্য সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দলবদল শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়—এটি মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসের সংগঠনিক দুর্বলতার ইঙ্গিতও বহন করছে।
ভোটের আগে এমন গুরুত্বপূর্ণ নেতার বিদায় কংগ্রেসের জন্য বড় ধাক্কা। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত দলীয় নেতৃত্বের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।



