২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের প্রচারে গতি আনতে আসছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই মুর্শিদাবাদে জনসভা করতে পারেন রাহুল গান্ধী এবং পরে প্রচারে যোগ দেবেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। জোট ছেড়ে একাই লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বাংলায় সংগঠন শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগ।
রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই প্রার্থী দিয়ে একক লড়াইয়ে নেমেছে জাতীয় কংগ্রেস। অধীর চৌধুরী, শুভঙ্কর সরকার, নেপাল মাহাতোর মতো একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীকে সামনে রেখে এবার ভোটে নিজেদের উপস্থিতি জোরালো করতে চাইছে দল। সেই লক্ষ্যেই দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, বাংলা নববর্ষের সময় রাজ্যে আসতে পারেন রাহুল গান্ধী। প্রাথমিকভাবে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে ১৪ এপ্রিল তাঁর জনসভা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগে সুতি, ফরাক্কা ও ইসলামপুরে সভার পরিকল্পনা থাকলেও সময়সূচির জটিলতার কারণে তা বদলানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে দিল্লির শীর্ষ নেতাদের আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, ১৪ এপ্রিলের পর ১৮ থেকে ২১ এপ্রিলের মধ্যে বাংলায় প্রচারে আসতে পারেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও পুরুলিয়া—এই তিন জেলাকে ঘিরেই তাঁদের প্রচারের মূল রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। কারণ এই জেলাগুলিতে কংগ্রেসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী রয়েছেন।
শুধু রাহুল-প্রিয়াঙ্কাই নন, দিল্লি থেকে আরও একাধিক নেতা বাংলায় প্রচারে আসতে পারেন। সূত্রের খবর, মহম্মদ আজহারউদ্দিন, শচীন পাইলট ও ইমরান প্রতাপগড়ির মতো নেতাদেরও প্রচারে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হবে বলেই মনে করছে কংগ্রেস শিবির।
এদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার নিজের কেন্দ্র শ্রীরামপুরে রাহুল গান্ধীর সভার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে, বহুদিন পর বাংলায় কংগ্রেসের সংগঠনকে চাঙ্গা করতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই সক্রিয়তা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।



