মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ফের চরমে। হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump—আর তার জবাবেই পালটা হুঁশিয়ারি ছুড়েছে Iran। ব্যর্থ শান্তি বৈঠকের পর দু’দেশের মধ্যে সংঘাতের আবহ আরও ঘনীভূত, যা বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ইসলামাবাদে দীর্ঘ আলোচনার পরেও সমঝোতা না হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত বদলেছে। মার্কিন প্রশাসন ঘোষণা করেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনও জাহাজের যাতায়াত বরদাস্ত করা হবে না। প্রবেশ বা প্রস্থান—দুই ক্ষেত্রেই কড়া নজরদারি চালাবে মার্কিন নৌবাহিনী।
এই ঘোষণার পরেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তেহরান। ইরানের সাফ বার্তা—হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের উপর তাদের সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। শত্রুপক্ষ কোনও ভুল পদক্ষেপ নিলে তার ফল মারাত্মক হবে বলেও সতর্ক করেছে তারা।
এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে Hormuz Strait—বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ। এই প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে অচলাবস্থা তৈরি হলে তার প্রভাব পড়বে আন্তর্জাতিক বাজারে।
এর আগে Pakistan-এর রাজধানী ইসলামাবাদে প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে বৈঠক করে দুই দেশ। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance জানান, আলোচনার সময় ট্রাম্প নিয়মিত আপডেট নিচ্ছিলেন এবং প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ রাখেন।
তবে সেই দীর্ঘ আলোচনার পরেও কোনও সমঝোতা হয়নি। আমেরিকার দাবি, ইরান তাদের শর্ত মানতে রাজি হয়নি। ভান্সের বক্তব্য, তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছিল কোন বিষয়ে আপস সম্ভব, আর কোন বিষয়ে নয়—তবুও চুক্তি হয়নি।
অন্যদিকে ইরানের অভিযোগ, আমেরিকা অযৌক্তিক দাবি চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল, যা দেশের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী। তাদের মতে, ইতিবাচক মনোভাব থাকা সত্ত্বেও মার্কিন অবস্থানের কারণেই আলোচনা ভেস্তে যায়।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নতুন করে যে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে, তা শুধু আঞ্চলিক নয়—বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা আন্তর্জাতিক মহলের।



