মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘ সংঘাত নতুন মোড় নিতে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রায় আড়াই বছরের রক্তক্ষয়ী ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতার কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তাঁর দাবি, হামাস সম্পূর্ণভাবে অস্ত্র সমর্পণে রাজি হয়েছে এবং তার পরবর্তী ধাপে গাজা উপত্যকা থেকে ইজরায়েলি সেনাও সরে যাবে। যদিও এই ঘোষণার বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)-র সরকার।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, ‘বোর্ড অফ পিস’-এর মধ্যস্থতায় হামাস এবং গাজার অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠন অস্ত্র ত্যাগে সম্মত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে গাজায় অসামরিক প্রশাসন গঠনের পথ খুলবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হামাসের অস্ত্রত্যাগ সম্পন্ন হওয়ার পর ধাপে ধাপে গাজা থেকে ইজরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে একটি নতুন প্যালেস্টাইনি পুলিশ বাহিনী গঠন করা হবে, যারা ভবিষ্যতে গাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব নেবে। এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার জন্য মিশর, কাতার এবং তুরস্ককেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তবে ঘোষণার পরেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি বদলায়নি। খাতায়-কলমে সংঘর্ষবিরতি কার্যকর থাকলেও বৃহস্পতিবার গাজায় ইজরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ চারজনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। ফলে ঘোষিত সমঝোতা মাটিতে কত দ্রুত কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
অন্যদিকে হামাসের এক শীর্ষ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, অস্ত্রত্যাগের নীতিগত বিষয়ে তারা সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি ইজরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি নিয়েও উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া কবে থেকে শুরু হবে বা কত সময়ের মধ্যে শেষ হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা প্রকাশ করা হয়নি।
প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগেই হামাস ঘোষণা করেছিল যে তারা গাজার প্রশাসনিক ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে প্রস্তুত। ২০০৬ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর ২০০৭ সালে প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন ফাতাহ (Fatah)-র কাছ থেকে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয় হামাস। এরপর প্রায় দুই দশক ধরে গাজায় তাদের শাসন চলেছে এবং একাধিকবার ইজরায়েলের সঙ্গে সশস্ত্র সংঘাতে জড়িয়েছে সংগঠনটি।
হামাসের দাবি, গাজায় চলমান সামরিক অভিযান ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করার স্বার্থেই তারা ক্ষমতা ছাড়ার এবং অস্ত্র সংবরণের পথে হাঁটতে রাজি হয়েছে। তবে এই সমঝোতা বাস্তবে কার্যকর হলে তবেই বোঝা যাবে, বহু বছরের সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে সত্যিই স্থায়ী শান্তির নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে কি না।



