গাজা উপত্যকায় চলমান ইজরায়েল-হামাস সংঘর্ষের আবহে ফের সামনে এল এক মর্মান্তিক ঘটনা। প্যালেস্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (PFA) দাবি, ইজরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন প্যালেস্টাইনের গোলরক্ষক সালিম আল-আশকার। তাঁর মৃত্যুর পর বেশ কয়েক দিন কেটে গেলেও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফার তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না আসায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
প্যালেস্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, ২০২৩ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বহু ক্রীড়াবিদ প্রাণ হারিয়েছেন। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলেন ৩২ বছর বয়সি গোলরক্ষক সালিম আল-আশকার। সংগঠনের অভিযোগ, ইজরায়েলি বাহিনীর হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার চেয়েছে সংস্থাটি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সালিম স্থানীয় ক্লাব খাদমাত খান ইউনুস-এর হয়ে খেলতেন। কয়েক মাস আগেই তাঁর বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে রান্নার গ্যাস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। এরপর আর জীবিত অবস্থায় তাঁর ফেরা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
প্যালেস্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের সংঘাতে দেশের ফুটবল কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু ফুটবলার, কোচ এবং ক্রীড়া সংগঠকও এই সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে তাদের দাবি। তাই আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা এবং বৈশ্বিক ক্রীড়া সংগঠনগুলির আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
এদিকে সালিম আল-আশকারের মৃত্যুর পরও ফিফার নীরবতা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের প্রশ্ন, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম নিয়ামক সংস্থা হিসেবে মানবিক এই ঘটনার বিষয়ে ফিফার অবস্থান কী, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি।
তবে উল্লেখযোগ্য, এই ঘটনার বিষয়ে ফিফা এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। একই সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের ভিন্ন ভিন্ন দাবি রয়েছে। ফলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন যাচাই এখনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে।



