নির্বাচনের মুখে ফের প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা। সাত বছরের পুরনো এক চিঠিতে বিজেপির প্রতীকের সিলমোহর ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্কে এবার সরব Abhishek Banerjee। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই চিঠি তুলে ধরে সরাসরি কমিশনের ভূমিকা ও বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়েই প্রশ্ন তুললেন তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এই ধরনের ঘটনা এবং সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলি বিচারব্যবস্থার উপর রাজনৈতিক প্রভাব বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাঁর কথায়,
“এই ধারা চলতে থাকলে সুপ্রিম কোর্টের রায়গুলিতেও রাজনৈতিক ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠবে।”
তিনি আরও দাবি করেন, বিচারিক কর্তৃত্বকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) নিয়োগের প্যানেল থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
অভিষেকের কড়া মন্তব্য—
“যাঁরা সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়েছেন, তাঁরাই সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে তার ভিত্তি দুর্বল করছেন। এটা গণতন্ত্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।”
বিতর্কের সূত্র কোথায়?
এই বিতর্কের সূত্র ২০১৯ সালের ১৯ মার্চের একটি চিঠি। Election Commission of India-র দফতর থেকে রাজ্যগুলির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে বিজেপির প্রতীক ‘পদ্ম’-এর সিলমোহর থাকার অভিযোগ ওঠে।
প্রথমে এই চিঠির ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন Mahua Moitra। পরে সেই পোস্ট ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়, যখন চিঠির নীচে স্পষ্টভাবে দলীয় প্রতীকের ছাপ দেখা যায়।
কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
এই ঘটনার জেরে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধী শিবির। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের আগে এই ধরনের তথ্য সামনে আসায় রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ছে।
যদিও কমিশন সূত্রে দাবি, ২০১৯ সালের ওই ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং তাঁকে সাসপেন্ডও করা হয়েছে।
রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে
এই ইস্যুতে অভিষেকের মন্তব্য স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—
- নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের সন্দেহ বাড়ছে
- বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে
- আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে
সব মিলিয়ে, একটি পুরনো চিঠিকে ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ।



