অর্ক সানা, সম্পাদক (নজরবন্দি.ইন): ভোটের ঠিক আগে পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্বর্তী বাজেট যে শুধু অর্থনৈতিক নথি নয়, তা বৃহস্পতিবার স্পষ্ট করে দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। একের পর এক ভাতা বৃদ্ধি, নতুন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প, কর্মী-পেনশনভোগী থেকে যুব সমাজ—সবার জন্য ঘোষণার বন্যায় কার্যত চাপের মুখে পড়ল বিরোধীরা। রাজনীতির ভাষায় যাকে বলা হয় ‘নির্বাচনী মাস্টারস্ট্রোক’, ঠিক সেটাই খেললেন মুখ্যমন্ত্রী।
বাজেটে একদিকে যেমন লক্ষ্মীর ভান্ডারে ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলাকে সরাসরি আর্থিক স্বস্তি দেওয়া হল, অন্যদিকে মাধ্যমিক পাশ বেকার যুবকদের জন্য ‘বাংলার যুব সাথী’ প্রকল্পে মাসিক ১৫০০ টাকার ঘোষণা রাজ্যের কর্মসংস্থান বিতর্ককে নতুন মোড়ে নিয়ে গেল। শুধু তাই নয়—ডিএ বৃদ্ধি, সপ্তম পে কমিশন, আশা-অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, শিক্ষাবন্ধু, সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রিন পুলিশ—কারও কথাই বাদ গেল না।

পেনশনভোগীদের জন্যও এ দিনের বাজেট বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গ হেলথ স্কিমে ২ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে চিকিৎসা খরচের ৭৫ শতাংশ ক্যাশলেস ব্যবস্থার আওতায় আনার ঘোষণা অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ অনেকটাই কমাল। পাশাপাশি গিগ কর্মীদের স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় আনা বুঝিয়ে দিল—অনানুষ্ঠানিক শ্রমক্ষেত্রও সরকারের বিবেচনার বাইরে নয়।
রাজনৈতিক ভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—এই সব ঘোষণার সময় ও বিস্তার। ভোটের মুখে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত বিরোধীদের সামনে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন। ভাতা বনাম কর্মসংস্থান—এই বিতর্ক বহুদিন ধরেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু এ দিনের বাজেটের পর সেই বিতর্ক একপাক্ষিক রয়ে গেল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
কারণ প্রশ্নটা এখন সহজ। হিম্মত থাকলে শুভেন্দু অধিকারী বা সেলিমরা বলুন—তাঁরা ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভান্ডার, বাংলার যুব সাথী বা ভাতা দেওয়া প্রকল্প গুলি বন্ধ করবেন। একই সঙ্গে বলুন, কী ভাবে, কত সময়ের মধ্যে কর্মসংস্থান বাড়াবেন। শুধু ভাতা নিয়ে কটাক্ষ নয়—বিকল্প রূপরেখা ছাড়া এখন রাজনীতির ময়দানে টিকে থাকা কঠিন।
এই বাজেট এক অর্থে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দর্শনেরই প্রতিফলন—‘সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রথম’। আর সেই দর্শনের সামনে দাঁড়িয়ে বিরোধীদের যাবতীয় কৌশল আপাতত ভেস্তে গেল বলেই মনে করছে নবান্ন থেকে বিধানসভা—সব মহল।



