বাংলায় ফের নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই নার্স এখনও ভেন্টিলেশনেই রয়েছেন। তাঁদের দু’জনের শরীরেই নিপা ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে প্রাথমিক পরীক্ষায়। চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে NIV Pune-এ। হাসপাতাল সূত্রে খবর, দু’জনের অবস্থাই অত্যন্ত সঙ্কটজনক।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে রাজ্য ও কেন্দ্র—দু’পক্ষই নড়েচড়ে বসেছে। ইতিমধ্যেই বারাসতের ওই হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল। কী ভাবে সংক্রমণ হল, গত কয়েক দিনে ওই দুই নার্স কার কার সংস্পর্শে এসেছিলেন—সব দিক খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে বিস্তৃত তদন্ত।
চলছে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং, নির্দেশ কোয়ারান্টিনের
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে শুরু হয়েছে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং। অর্থাৎ, যাঁরাই ওই দুই নার্সের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করে একে একে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। সকলকে নিভৃতবাস (কোয়ারান্টিন)-এ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বেলেঘাটা আইডি প্রস্তুত, আতঙ্ক নয় সতর্কতার বার্তা
আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতাল।
স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর—
-
এমার্জেন্সিতে ১০টি শয্যা
-
সাধারণ ওয়ার্ডে ৬৮টি শয্যা
-
পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা
বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির সদস্য স্বপন সমাদ্দার বলেন,
“নিপা নিয়ে মঙ্গলবারই বৈঠক হয়েছে। সব রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। তবে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে—আধখাওয়া ফল খাবেন না, ফলের রসের দোকান এড়িয়ে চলুন, ফল কিনলে গরম জলে ধুয়ে খান।”
বর্ধমান সফর ঘিরে বাড়তি নজর
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, নিপা-আক্রান্ত ওই দুই নার্স কিছু দিন আগে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁরা কার কার সংস্পর্শে এসেছিলেন, তার সম্ভাব্য তালিকা তৈরি হচ্ছে।
পূর্ব বর্ধমানের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম জানান,
“এখনও পর্যন্ত ৪৮ জনের একটি তালিকা তৈরি হয়েছে। সকলের স্বাস্থ্যের উপর নজর রাখা হচ্ছে।”
গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য ভবন একটি বিশেষ দল গঠন করেছে। নিপা সংক্রমণ মোকাবিলায় স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়োর (SOP) তৈরি করা হচ্ছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের তরফে অযথা আতঙ্ক না ছড়িয়ে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে এবং চালু করা হয়েছে হেল্পলাইন নম্বর।
কী ভাবে ছড়ায় নিপা ভাইরাস?
চিকিৎসকদের মতে, নিপা ভাইরাসের মূল উৎস বাদুড়।
-
বাদুড়ের আধখাওয়া ফল
-
দূষিত ফলের রস বা খেজুরের রস
-
আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অনির্বাণ দলুই বলেন,
“শুরুতে আলাদা কোনও লক্ষণ থাকে না। জ্বর, শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা, পেট খারাপ, দুর্বলতা, খিদে কমে যাওয়া—এ রকম সাধারণ উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এগুলি হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।”
তিনি আরও সতর্ক করে জানান, নিপা ভাইরাসে মৃত্যুহার ৪০–৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তাই—
✔ সাবান দিয়ে বারবার হাত ধোয়া
✔ ফল ও সবজি ভাল করে ধুয়ে খাওয়া
✘ আধখাওয়া ফল, খোলা ফলের রস বা খেজুরের রস না খাওয়া
এই সতর্কতাগুলি মেনে চলাই এখন সবচেয়ে জরুরি।



