বিবাহিত হওয়ার পরও পারভিনের সঙ্গে পরকীয়া! হোমগার্ডের রহস্যমৃত্যুতে পলাতক সাব-ইন্সপেক্টর

২২ বছরের রেশমি মোল্লার দেহ উদ্ধারের পর সাসপেন্ড অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিক; বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন বারুইপুর পুলিশ জেলার

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে এক তরুণী হোমগার্ডের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। ক্যানিং থানার পুলিশ কোয়ার্টারের একটি ঘর থেকে রবিবার উদ্ধার হয় ২২ বছরের গুলজান পারভিন মোল্লা ওরফে রেশমির ঝুলন্ত দেহ। তিনি ওই থানাতেই হোমগার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মৃত্যুর পর থেকেই প্রশ্নের মুখে ক্যানিং থানার সাব-ইন্সপেক্টর সায়ন ভট্টাচার্য। রেশমির পরিবারের অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে ওই পুলিশ আধিকারিকের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসার আশঙ্কা থেকেই রেশমিকে খুন করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। অভিযোগের ভিত্তিতে ‘খুনের মামলা’ রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে বারুইপুর পুলিশ জেলার পক্ষ থেকে সায়ন ভট্টাচার্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে রবিবার রাত পর্যন্ত তাঁর কোনও হদিশ মেলেনি। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরেই তিনি আত্মগোপন করেছেন।

তদন্তে গতি আনতে বারুইপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করা হয়েছে। এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রূপান্তর সেনগুপ্ত। থানার অভ্যন্তরীণ দায়িত্ব বণ্টন, কোয়ার্টারের প্রবেশাধিকার এবং মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার ডিউটি শেষ করে থানার পিছনের দিকের একটি কোয়ার্টারে গিয়েছিলেন রেশমি। তার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সাড়া না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার সারাদিন অপেক্ষার পর রবিবার তাঁরা ক্যানিং থানায় যান। রেশমির বোন রুকসানা খাতুন কোয়ার্টারের দরজা খুলতেই ভিতরে ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। চিৎকার শুনে ছুটে আসেন কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা। পরে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

প্রসঙ্গত, রেশমির বাবা রশিদ মোল্লা প্রায় দু’বছর আগে ভাঙড়ে খুন হন। সেই ঘটনার পরই মানবিক কারণে পরিবারের বড় মেয়ে রেশমিকে হোমগার্ডের চাকরি দেওয়া হয়েছিল। সেই পরিবারের মেয়ের এমন পরিণতি নতুন করে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও ফরেনসিক তথ্যের উপর ভিত্তি করেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আপাতত গোটা ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে SIT।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন