২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে চলছে ভোটার তালিকা পর্যালোচনার বিশেষ উদ্যোগ এসআইআর (Special Summary Revision/SIR in Bengal)। এই প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে একাধিক নির্দেশ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। এবার নন্দীগ্রাম ও রামনগরে পাঠানো হলো দুই স্পেশাল অবজার্ভার, যা এলাকাটিতে কমিশনের অতিরিক্ত নজরদারির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নন্দীগ্রাম বিধানসভার গুরুত্ব এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগকেই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইআরও–র সঙ্গে বৈঠক করে অবস্থান জানলেন অবজার্ভার
কমিশন সূত্রে জানা গেছে—
বুধবার নন্দীগ্রাম বিধানসভার ইআরও–এর সঙ্গে বৈঠক করেন একজন স্পেশাল অবজার্ভার।
বৃহস্পতিবার রামনগরের দায়িত্বপ্রাপ্ত অবজার্ভারও একইভাবে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।
বৈঠকে আলোচনা হচ্ছে—
এসআইআর–এর কাজ কতদূর এগিয়েছে
কোথায় সমস্যা বা অভিযোগ রয়েছে
কোন তথ্য খতিয়ে দেখা প্রয়োজন
ভুয়ো ভোটার সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাই
এই তদারকি প্রক্রিয়া যে আরও কঠোর হবে, তার ইঙ্গিতও দিয়েছেন কমিশনের কর্তারা।
কমিশনের লক্ষ্য—স্বচ্ছ ভোটার তালিকা
এসআইআর ঘোষণার দিনই জাতীয় নির্বাচন কমিশনার স্পষ্ট করেন— স্বচ্ছ, ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরি করাই প্রধান লক্ষ্য। এই কারণে যে সব রাজ্যে ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর চলছে, সেখানেই বিশেষ পর্যবেক্ষক পাঠানো হচ্ছে যাতে অভিযোগ দ্রুত সমাধান করা যায় এবং ত্রুটি রোধ করা যায়। ফলে জেলার প্রশাসনের ওপর চাপ বেড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
“অন্য জায়গায় থাকলে নাম তুললে কমিশন দেখবেই”—শুভেন্দুর প্রতিক্রিয়া
নন্দীগ্রামে অতিরিক্ত নজরদারি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন— “এক জায়গায় থাকেন, আর অন্য জায়গার ভোটার তালিকায় নাম তুললে কমিশন তো লোক পাঠাবেই।” তাঁর দাবি, এসআইআর চালু হওয়ার পর বহু ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ পড়বে— যে অভিযোগ তিনি আগেই তুলেছিলেন।
নন্দীগ্রাম ঘিরে কমিশনের তৎপরতা বাড়ল কেন?
নন্দীগ্রাম বহু বছর ধরেই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কেন্দ্র হওয়ায় তাঁর অভিযোগ ও দাবি বিষয়টিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনও চায়—
ভোটার তালিকায় বাস্তব অবস্থান, বাসস্থানের সত্যতা এবং ভোটাধিকারের যোগ্যতা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি বজায় থাকুক।



