বিজেপি এলে পার্কস্ট্রিট-কামদুনি মামলা রিওপেন হবে, প্রতিশ্রুতি শুভেন্দুর

দুর্গাপুরে কালীপুজোর উদ্বোধনে তৃণমূল সরকারকে তোপ দাগলেন শুভেন্দু অধিকারী। জানালেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে পার্কস্ট্রিট ও কামদুনি কাণ্ডের বিচার আবার শুরু হবে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিজেপি ক্ষমতায় এলে পার্কস্ট্রিট ও কামদুনি কাণ্ডের ফাইল ফের খোলা হবে। এমনই ঘোষণা করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের চাঞ্চল্য তৈরি করেছে তাঁর এই মন্তব্য।

দুর্গাপুরে এক কালীপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, “তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ বলেই অভিযুক্তদের রক্ষা করছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের কাজ ছিল নিরপেক্ষ তদন্ত করা, কিন্তু তারা উলটে গণধর্ষণের ঘটনাকে ‘ধর্ষণ’-এ রূপান্তরিত করেছে।”

শুভেন্দুর বক্তব্য, “তৃণমূল সরকারের অধীনে পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে অভিযুক্তদের আড়াল করা হয়েছে। এক অভিযুক্ত তো দুর্গাপুর পৌরনিগমের অস্থায়ী কর্মী, যিনি নিজে এবং তাঁর পরিবার তৃণমূলের সক্রিয় পদাধিকারী।”

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রাক্তন না করলে এই রাজ্যে কোনও মেয়ের সুরক্ষা নেই। এপ্রিল মাসে নতুন সরকার তৈরি হবে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে কামদুনি, পার্কস্ট্রিট থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত সব নারী নির্যাতনের মামলা রিওপেন করা হবে। বিচার না হওয়া পর্যন্ত ধাওয়া চলবে।”

শুভেন্দুর দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের সর্বোচ্চ সাজা— ফাঁসি পর্যন্ত দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “ধর্ষকরা যেখানেই থাকুক, খুঁজে বের করে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে।”

তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া। তৃণমূল শিবিরে স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা বলছেন, রাজ্য সরকার বরাবরই এমন সংবেদনশীল মামলাগুলিকে রাজনৈতিক প্রভাবে ঢেকে দিয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে পালটা দাবি, শুভেন্দু রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় সূত্রের খবর, দুর্গাপুরের মূল অভিযুক্ত ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। এলাকার কাউন্সিলর এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, তিনি তৃণমূলের স্থানীয় অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন।

অন্যদিকে, দুর্গাপুর পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য রাখি তিওয়ারী বলেন, “যে ঘটনা ঘটেছে, তার তীব্র নিন্দা করছি। যে দোষী, তার সাজা চাই। তবে অভিযুক্ত সরাসরি পুরসভার কর্মী নন, বিদ্যুৎ দফতরের ঠিকাদার সংস্থায় কাজ করতেন।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে একদিকে যেমন নারীর সুরক্ষা নিয়ে বিজেপির অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে তৃণমূল সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিকও উঠে এসেছে।

রাজ্যে নারীর নিরাপত্তা এখন অন্যতম রাজনৈতিক ইস্যু। পার্কস্ট্রিট ও কামদুনি কাণ্ড এখনও মানুষের মনে তাজা ক্ষত হয়ে রয়ে গেছে। শুভেন্দুর বক্তব্যে তাই নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই পুরনো দুটি মামলা।

বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নারীর সুরক্ষা ও বিচার নিশ্চিত করার ইস্যুকে বড় হাতিয়ার করতে চাইছে দলটি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন