তালিবান সংঘর্ষে ফের ভারতকে দোষারোপ, পাকিস্তানের পুরোনো কৌশল ফের সামনে

আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্তে সংঘর্ষের মধ্যে ফের ভারতবিরোধী মন্তব্য পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর। নয়াদিল্লির কড়া প্রতিক্রিয়া— ‘‘নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে দোষ চাপাচ্ছে পাকিস্তান।’’

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষে জেরবার পাকিস্তান ফের ভারতকে টেনে আনল কূটনৈতিক লড়াইয়ে। সীমান্তে তালিবান বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের উত্তাপ যখন চরমে, তখন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খওজা আসিফ এক সাক্ষাৎকারে ফের ভারতের নাম টানলেন। তাঁর দাবি, ভারতের হয়ে প্রক্সি যুদ্ধ করছে তালিবান

এই মন্তব্যের পরই আন্তর্জাতিক মহলে ফের আলোচনায় আসে Pakistan India Afghanistan Conflict ইস্যু। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইসলামাবাদের পুরনো কৌশল— অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ব্যর্থতা ঢাকতে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা।

খওজা আসিফ বলেন, “পাকিস্তান দুই দিক থেকেই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। সীমান্তে ভারতের নোংরা নীতি নেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।” তিনি আরও দাবি করেন, “আমরা যেকোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।” তাঁর বক্তব্য, আফগানিস্তানের সীমান্তে তালিবান এখন ভারতের ইশারায় কাজ করছে— যা Pakistan Taliban Conflict-এর নতুন মোড় তৈরি করেছে।

এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “পাকিস্তানের এই আচরণ নতুন নয়। নিজেদের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকতে প্রতিবেশীদের উপর দোষ চাপানো তাদের অভ্যেস।”

জয়সওয়াল আরও বলেন, “ভারত সবসময় আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও স্বাধীনতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা আগেও ছিলাম, এখনও আছি।”

এদিকে তালিবান সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান সম্প্রতি আফগান আকাশসীমা লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়েছে। কাবুলের তরফে দাবি করা হয়, পাকিস্তানে বহু সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আশ্রয় পায়, আর তারাই এখন আফগানিস্তানের ভিতরে অশান্তি ছড়াচ্ছে।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ইসলামাবাদের দাবি, আফগান সীমান্তে তাদের সামরিক পদক্ষেপ সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। তবে কাবুলের বক্তব্য, “পাকিস্তান আগ্রাসী মনোভাব দেখাচ্ছে।”

বুধবার কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর দু’দেশের মধ্যে সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। পরে আফগান ও পাকিস্তান সেনার মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলেও উত্তেজনা এখনও প্রশমিত হয়নি।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা মনে করছেন, পাকিস্তান এখন রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং সীমান্তে তালিবান সংঘর্ষ— তিন দিকের চাপে পড়ে India Card ব্যবহার করছে। তাদের লক্ষ্য, অভ্যন্তরীণ ক্ষোভকে অন্যদিকে ঘোরানো এবং ভারত-বিরোধী জাতীয়তাবাদ উস্কে তোলা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লি শান্তভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে পাকিস্তানের এই পুনরাবৃত্ত ভারতবিরোধী প্রচার দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক বার্তা দিচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন