বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫-এর আবহে বড় ঘোষণা করলেন জন সুরাজ পার্টির (JSP) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর। মঙ্গলবার রাতে নিজের দলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর বুধবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন — “এবার ভোটে লড়ছি না”। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছিল, রাঘোপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হবেন কি না তিনি। অবশেষে সেই ধোঁয়াশার অবসান ঘটালেন পিকে।
প্রশান্ত কিশোর জানিয়েছেন, এই নির্বাচনে তিনি প্রার্থী না হলেও জন সুরাজ পার্টি পুরো শক্তি নিয়ে লড়াইয়ে নামবে। তাঁর কথায়, সাংগঠনিক কাজেই মনোযোগ দিতে চান তিনি, আর সেই কারণেই এবার ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না।
রাঘোপুর ও কারগাহার — দুই কেন্দ্রেই জল্পনা ছিল পিকে-কে ঘিরে
কিছুদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল, তেজস্বী যাদবের শক্ত ঘাঁটি রাঘোপুর থেকে প্রশান্ত কিশোর প্রার্থী হতে পারেন। এমনকি তিনি নিজেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রাঘোপুরই তাঁর প্রথম পছন্দ। দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে বলেছিলেন কারগাহার কেন্দ্রের কথা, যা তাঁর নিজের বিধানসভা এলাকা।

তবে মঙ্গলবার জন সুরাজ পার্টি যে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে, তাতে দেখা যায় রাঘোপুর থেকে লড়বেন চঞ্চল সিংহ এবং কারগাহার থেকে রীতেশ রঞ্জন। এই ঘোষণার পরই স্পষ্ট হয়ে যায়, পিকে-র নির্বাচনী হাতেখড়ি এবার হচ্ছে না।
কেন ভোটে লড়ছেন না প্রশান্ত কিশোর?
প্রশান্ত কিশোর সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে বলেন, “জন সুরাজ পার্টি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমি ভোটে না লড়ে সাংগঠনিক কাজের দিকে মনোযোগ দিই। কোনও একটি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হলে আমি সেখানেই আটকে যেতাম। দল তা চায় না।”
অর্থাৎ, পিকে-র ভোটে না নামার পেছনে রয়েছে একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল। দল চায়, তিনি রাজ্যজুড়ে প্রচারে নেতৃত্ব দিন, প্রতিটি প্রার্থীর জন্য প্রচার চালান — এক কেন্দ্রেই আটকে না থেকে।
এনডিএ-র বিরুদ্ধে ‘ভবিষ্যদ্বাণী’
ভোটে না নামলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ থেকে পিছিয়ে নেই প্রশান্ত কিশোর। তাঁর দাবি, এই নির্বাচনে বিহার থেকে বিদায় নেবে এনডিএ (NDA)। নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ (JDU) ২৫টি আসন জিততেও হিমশিম খাবে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “জেডিইউ-র ভবিষ্যৎ বোঝার জন্য বিশ্লেষক হওয়ার দরকার নেই। গতবার চিরাগ পাসোয়ানের বিদ্রোহে নীতীশের দল বিধ্বস্ত হয়েছিল। এবার আরও কঠিন অবস্থা।”
পিকে-র মতে, বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA alliance)-র মধ্যেও উন্নতি হয়নি। আরজেডি ও কংগ্রেসের মধ্যে চলছে অন্তর্দ্বন্দ্ব। ফলে বিরোধী শিবিরও এককাট্টা হয়ে ভোটে নামতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে এনডিএ-র পক্ষে আগের মতো জনসমর্থন ধরে রাখা কঠিন।
নির্বাচনের নির্ঘণ্ট
নির্বাচন কমিশন ৬ অক্টোবর ঘোষণা করেছে, বিহারের ২৪৩টি আসনে দু’দফায় ভোট হবে।
-
প্রথম দফায় ১২১টি আসনে ভোট ৬ নভেম্বর। মনোনয়ন জমা ১০-১৭ অক্টোবর, পরীক্ষা ১৮ অক্টোবর এবং নাম প্রত্যাহার ২০ অক্টোবর পর্যন্ত।
-
দ্বিতীয় দফায় ১২২টি আসনে ভোট ১১ নভেম্বর। গেজেট বিজ্ঞপ্তি ১৩ অক্টোবর, মনোনয়ন ২০ অক্টোবর পর্যন্ত, নাম প্রত্যাহার ২৩ অক্টোবর।
-
ফলাফল ঘোষণা হবে ১৪ নভেম্বর।
এই ভোটে প্রশান্ত কিশোর প্রার্থী না হলেও, জন সুরাজ পার্টি রাজ্যের বিভিন্ন আসনে লড়াইয়ে নামবে। পিকে নিজে থাকবেন প্রচারের ময়দানে, যা নিঃসন্দেহে এনডিএ ও বিরোধী উভয়ের জন্যই এক বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।
প্রশান্ত কিশোরের ভোটে না নামার সিদ্ধান্তকে অনেকেই দেখছেন “মাস্টারস্ট্রোক” হিসেবে। কারণ, প্রার্থী হলে তাঁর কার্যক্ষেত্র সীমিত হয়ে যেত একটি আসনে। কিন্তু সাংগঠনিক প্রধান হিসেবে তিনি পুরো রাজ্যজুড়ে প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন। অন্যদিকে, এনডিএ নিয়ে তাঁর ‘বিদায়ের ভবিষ্যদ্বাণী’ নির্বাচনের লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রাজনৈতিক মহল বলছে, পিকে-র ভূমিকা এবারের বিহার নির্বাচনে “কিংমেকার” হতে পারে, যদিও তিনি প্রার্থী নন।



