নজরবন্দি ব্যুরোঃ “২ তারিখ ভোটবাক্স খুললে যেন পদ্মফুল চোখে সর্ষে ফুল দেখে” সিতাইয়ে ডাক দিলেন অভিষেক। কাল রাজ্যে নন্দীগ্রাম সহ ৩০ টি কেন্দ্রে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। এদিকে নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তুলছেন দুই পক্ষই। এদিকে আজ কোচবিহারের সিতাইয়ে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে জনসভা করলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানে বিজেপিকে বিঁধতে গিয়ে বিজেপির দেওয়া প্রতিশ্রুতি আর তা বাস্তবায়নের ফারাক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিপক্ষকে তুলোধোনা করেন অভিষেক।
আরও পড়ুনঃ নির্বাচনের একদিন আগে প্রচারসভা থেকে শাসকদলকে বিঁধলেন বিজেপি সভাপতি নাড্ডা।
তিনি বলেন “আয়ুষ্মান ভারতের সঙ্গে স্বাস্থ্যসাথীর তুল্যমূল্য বিচার করুন কেন্দ্র মাত্র ১০ শতাংশ মানুষকে এর আওতায় আনতে চেয়েছিল। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বাংলার ১০ কোটি মানুষ, তিনি গরীব, বড়লোক, ছোট, বড় যেই হোন না কেন, সবার জন্য চালু করেছেন স্বাস্থ্যসাথী। আর নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এই প্রকল্প বাড়ির মহিলাদের নামে করা হয়েছে। এই কার্ড নিয়ে দেশের সব জায়গায় পরিষেবা পাওয়া যাবে।” নতুন প্রকল্প ছাড়াও পুরনো প্রতিশ্রুতিও উঠে আসে তাঁর মুখে। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০১৪ সালে লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি দাবি করত, ক্ষমতায় এলে বিদেশ থেকে কালো টাকা উদ্ধার করা হবে, ১৫ লক্ষ টাকা করে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আসবে।
সে কথা উল্লেখ করে অভিষেক দাবি করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলেন তা করেন। যেটা পরবেন না সেটা সরাসরি বলে দেন। কিন্তু কেন্দ্র গত ৭ বছরে রাজ্য থেকে বার্ষিক ৭৫ হাজার কোটি টাকা কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আর আমফানে কেন্দ্র যে টাকা পাঠিয়েছে, তা নিয়ে প্রচার করতে নেমে পড়েছেন আরএসএস কর্মীরা। অথচ সেই টাকা বাংলা থেকে কেটে নিয়ে যাওয়া সাধারণ মানুষের টাকা। এমনটাই দাবি করেছেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ আসলে বিজেপি বাংলার মানুষকে ভাতে মারতে চায়, পাতে মারতে চায়।” এছাড়া সীমান্তে অনুপ্রবেশে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। সিতাইয়ের মানুষের কাছে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড, কৃষকদের আর্থিক সাহায্য, রাজ্যের পরিবারগুলিকে ন্যূনতম মাসিক আয়ের আওতায় আনা, দুয়ারে দুয়ারে রেশন পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন অভিষেক। বিজেপি টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন অভিষেক।
তিনি আরও বলেন ” কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব হচ্ছে শ্যামাপোকার মতো। নির্বাচন এলে তাঁরা আসেন, আবার নির্বাচন হয়ে গেলে তাঁরা চলে যান। তাঁদের আর দেখতে পাওয়া যাবে না। আপনারা সারা বছর তাঁদের দেখতে পান? করোনার সময় দেখতে পেয়েছিলেন? গত লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এখানে এসেছিলেন। কিছুদিন আগে ভোটের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সভা করেছেন। আর আসবেন না। আবার তাঁরা আসবেন লোকসভা নির্বাচনের সময় ভোট চাইতে”। এভাবেই দিল্লির বিজেপি নেতাদের কটাক্ষ করেছেন অভিষেক। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে দীর্ঘদিন ধরেই বহিরাগত বলছেন তৃণমূল নেতারা। এদিন অভিষেকের বক্তব্যে সেই একই কথা শোনা গেল। সেই সঙ্গে বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ” করোনার সময় কাউকে দেখা যায়নি। পরিযায়ী শ্রমিকরা হাজার কিলোমিটার হেঁটে বাড়ি ফিরেছেন। অথচ বিজেপি নেতারা চার্টার্ড বিমানে যাতায়াত করেন। সাধারণ মানুষ একটা টোটো পর্যন্ত পান না। পেট্রোলের দাম সেঞ্চুরি করতে চলেছে। সরষের তেলের দাম লিটার প্রতি হয়েছে ১৬০ টাকা। এক কেজি পোস্তর দাম হয়েছে ১৫০০ টাকা। জুমলাবাজ বিজেপি নেতারা যেকথা বলেন, সেগুলি বাস্তবায়িত হয় না। কিন্তু আপনাদের দিদি কথা রাখেন। স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, সবুজসাথী, সব সুবিধা পেয়েছেন আপনারা। আগামীদিনে তৃণমূল ক্ষমতায় এসে মহিলাদের প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে হাত খরচ দেবে। বাংলার মেয়ে তাই বলছে, আগে ১০ বছরের হিসেব নিন। আমরা কি কি কাজ করেছি দেখুন। তারপর ঠিক করবেন আমাদের ভোট দেবেন কিনা। উল্টোদিকে বিজেপি বলতে পারবে, তারা গত সাত বছরে কি উন্নয়ন করেছে? ওরা সেটা বলতে পারবে না।”
“২ তারিখ ভোটবাক্স খুললে যেন পদ্মফুল চোখে সর্ষে ফুল দেখে” সিতাইয়ে ডাক দিলেন অভিষেক। তবে তিনি পরামর্শও দেন, “কেউ টাকা দিতে এলে তা নিয়ে নিতে। কারণ ওই টাকা বাংলার মানুষের করের টাকা বলেও দাবি করেন অভিষেক বলেন, টাকা নিয়ে তৃণমূলকেই ভোট দিন। ২ তারিখ ভোটবাক্স খুললে যেন পদ্মফুল চোখে সর্ষে ফুল দেখে। আলিপুরদুয়ারের ৯টি আসনেই বিজেপির জামানত বাজেয়াপ্ত করুন।” উপস্থিত শ্রোতারা হাততালি দিতে থাকে তাঁর বক্তব্যে। এখন দেখার অভিষেকের পেপ টক সিতাইয়ে তৃণমূলকে জয় এনে দিতে পারে কিনা।



