নজরবন্দি ব্যুরোঃ এভাবে চললে ১০০ পেরোবে না, হেভিওয়েট বিজেপি নেতার মন্তব্যে তোলপাড় বিজেপির অন্দরমহলে। বিজেপি সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল রাতে সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায় এবং রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিনহা সহ একাধিক রাজ্য বিজেপির নেতাদের সাথে বৈঠক করেন দিল্লীতে। জানা গিয়েছে, প্রকাশিত প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে ৯টি নাম। যার মধ্যে আছেন ক্যানিং পশ্চিম, রায়দিঘি সহ হুগলী এবং হাওড়ার জন্যে নির্ধারিত একধিক কেন্দ্রের প্রার্থীও। সূত্রের দাবি, সিঙ্গুর থেকে সরানো হতে পারে রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, হাওড়া দক্ষিণ থেকে রন্তিদেব সেনগুপ্ত এবং উত্তরপাড়া থেকে সরানো হতে পারে প্রবীর ঘোষাল কেও।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূল থেকে আসা নেতারা চাইছেন বিজেপি হেরে যাক, কালবৈশাখীর ঝড় উঠল বৈশাখীর মন্তব্যে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনসভা গুলিতে ভিড় কমতে থাকা নিয়েও। যোগী আদিত্যনাথ, রাজনাথ সিং, জেপি নাড্ডা, নিতিন গড়করি এমনকি খোদ নিজের সভাতেও লোক হচ্ছেনা কেন তা নিয়ে রাজ্য নেতৃত্বকে তুলোধোনা করেছেন অমিত। প্রার্থী তালিকার কোন্দল নিয়ে তিনি জানতে চান, কেন প্রার্থী তালিকা নিয়ে ক্ষোভের স্মৃষ্টি হল?কিভাবে বাছাই করা হল প্রার্থী? কেন কনফিডেন্সে নেওয়া যাচ্ছে না স্থানীয় নেতৃত্বকে? বিক্ষোভ কেন সামাল দিতে পারছে না রাজ্য নেতৃত্ব?
গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অমিত শাহ জানিয়েদেন যত দ্রুত সম্ভব প্রার্থী তালিকা সংশোধন করতে হবে। পাশাপাশি জয় নিশ্চিত করার জন্যে দিলীপ ঘোষ এবং মুকুল রায় কে লড়তে হবে। সূত্রের খবর, মুকুল রায় ভোটে দাঁড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি। মূলত বয়েস এবং শারীরিক অসুস্থতার কথা বলেছেন তিনি। সূত্রের দাবি, মুকুল রায় কে কৃষ্ণনগর উত্তর বা দক্ষিণ থেকে ভোটে দাঁড়ানোর কথা বলেছে দল। যদিও মুকুল দাঁড়াবেন না ভোটে তা একপ্রকার নিশ্চিত। সূত্রের দাবি, তিনি ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছেন, এভাবে চললে ক্ষমতায় আসা তো দূরের কথা, ১০০ পেরোবে না বিজেপি।
উল্লেখ্য, রাজ্যে আচমকাই বিজেপির জোয়ারে যেন ভাটার টান দেখা দিয়েছে। লক্ষণীয় ভাবে ভিড় কমছে সভা সমিতিগুলোতে। হেস্টিং অফিসে একদিকে যখন নব্য বিজেপির বিরুদ্ধে আদি বিজেপি বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে তখন অন্যদিকে জেলায় জেলায় প্রার্থী নিয়ে চলছে বিক্ষোভ। শুধু হুগলী জেলাতেই ১৮ টি আসনের মধ্যে ১০ টি আসনে নির্দল প্রার্থী দিচ্ছে আদি বিজেপি। শুরু হয়েছে নির্দলের পক্ষে দেওয়াল লিখন। একই ছবি হাওড়াতে। হাওড়া দক্ষিণ, আমতা, উলুবেড়িয়া পূর্বে প্রার্থী না বদলালে আদি বিজেপি নোটায় ভোট দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গতকাল একই দিকে যোগী আদিত্য নাথ এবং জেপি নাড্ডার জনসভায় তেমন ভাবে ভিড়ই হয়নি। অপমানিত যোগী সভাস্থলে এসে হাজার দেড়েক লোক দেখে ব্যাক্সটেজে বিশ্রাম নিতে শুরু করেন! সেই বিশ্রাম চলে পাক্কা দেড় ঘন্টা। আর দেড় ঘন্টায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক নিয়ে সভাস্থলে হাজার পাঁচেক লোক জড়ো করতে সমর্থ হন বিজেপি নেতারা, বিশ্রাম ছেড়ে ভাষণ দেন যোগী। একই ছবি ধরা পড়ল বিজেপির জাতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার বিষ্ণুপুরের সভায়। বাঁকুড়ার এই গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় ফাঁকা মাঠেই বক্তব্য রাখতে হয়েছে বিজেপির এই শীর্ষ নেতাকে। কেন এমন হচ্ছে? তা বঙ্গ বিজেপির থেকে জানতে চেয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ।



