হোয়াট্‌সঅ্যাপে কথা বলা বাধ্যতামূলক, কলতানের গ্রেফতারির পর সতর্ক বাম পাশে পেল রামকে!

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভাইরাল অডিও কাণ্ডে গ্রেফতার হয়েছেন CPM-এর যুব সংগঠন, DYFI-এর নেতা কলতান দাশগুপ্ত। ডাক্তারদের ধর্নামঞ্চে হামলার ষড়যন্ত্রের আটক করা হয়েছে কলতান দাশগুপ্তকে। আর এরপরেই সতর্কতা নিল সিপিএম। এবার থেকে সাধারণ কল নয়, হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কথা বলার ফরমার জারি হয়েছে মৌখিক ভাবে। সাধারণ কল ট্যাপ করা সম্ভব, কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপ কলে তা হবে না। কে কি কথা বলছেন সেটা রেকর্ড করা সম্ভব নয়।

শুক্রবার অডিও কান্ডে হালতু থেকে গ্রেফতার করা হয় সঞ্জীব দাসকে। ডাক্তারদের ধর্নামঞ্চে হামলার চক্রান্তের কথা হয়েছিল সেই অডিও কলে। গতকালই ওই ভাইরাল অডিও নিয়ে সরব হন তৃণমূলের নেতা কুণাল ঘোষ। আর শুক্রবার সঞ্জীব দাসের পর শনিবার সকালে গ্রেফতার হন কলতান।

বিধাননগর পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এই অডিও ক্লিপের সঙ্গে কলতানের যোগ পাওয়া গিয়েছে।  কুণাল যে অডিও ক্লিপ প্রকাশ করেন, তার সত্যতা যাচাই করেনি নজরবন্দি, যদিও বিধাননগর পুলিশের দাবি অডিও ক্লিপের সত্যতা যাচাই হয়েছে। এই ক্লিপ কোনভাবেই টেম্পার্ড নয়।

সঞ্জীব এবং কলতানের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২২৪, ৩৫২, ৩৫৩, ৩৫১ এবং ৩৬১ নং ধারায় মামলা হয়েছে। মামলা দায়ের করেছে ইলেকট্রনিক্স থানার পুলিশ। অন্যদিকে, বাম চাপে পড়তেই পাশে দাঁড়িয়েছে রাম। বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, “কিসের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে কলতান কে? অডিয়ো ক্লিপ কী করে কুণাল ঘোষের কাছে গেল? আর তার ভিত্তিতেই বা পুলিশ গ্রেফতার করল কীভাবে? আসলে তৃণমূল কংগ্রেস অসহিষ্ণু দল। কলতান দাশগুপ্তের গ্রেফতারকে খুব একটা গণতান্ত্রিক বলা যায় না। তিনি নাশকতার ছক কষছিলেন এরকম কোনও অভিযোগ থাকলে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে। কিন্তু, আমি তাঁকে যতদূর চিনি তাতে আমার মনে হয় না তিনি এরকম কাজ করার মতো মানুষ নন। তাই আমাদের মত এই গ্রেফতারি একটা স্বৈরাতান্ত্রিক পদক্ষেপ ছাড়া কিছু নয়।”

ওই ভাইরাল অডিওয় যে কথোপকথন শোনা যায়, তা হল-

কণ্ঠ ১ – সাহেব অর্ডার করেছে।
কণ্ঠ ২ – সাহেব?
কণ্ঠ ১ – অর্ডার করেছে।
কণ্ঠ ২ – হ্যাঁ।
কণ্ঠ ১ – সল্টলেক।
কণ্ঠ ২ – হ্যাঁ।
কণ্ঠ ১ – ওড়াবার জন্য।
কণ্ঠ ২ – অর্ডার হলে করে দে।

কণ্ঠ ১ – বলছি, আমি এত বছর এই কাজ করেছি, আমার কোনওদিন ভয়ডর লাগেনি। কিন্তু,
এখন এটা বিবেক… মানে, করাটা ঠিক হবে? এরা তো লোকের জীবন বাঁচায়।
কণ্ঠ ২ – তোকে তো ফাইট টু ফিনিশ করতে বলেনি।
কণ্ঠ ১ – হ্যাঁ?
কণ্ঠ ২ – তোকে তো ফাইট টু ফিনিশ করতে বলেনি।
কণ্ঠ ১ – ছেলেরা মদ খেয়ে যায়। কোনও একটা বেহাত কিছু হয়ে গেলে, সেটাও তো চিন্তার বিষয়।
কণ্ঠ ২ – সেটা ওকে বল, যে আমার এরকম মনে হচ্ছে। কী করব?
কণ্ঠ ১ – বাপ্পাদাকে পার্সোনালি জিজ্ঞেস করেছিলাম।
কণ্ঠ ২ – হ্যাঁ
কণ্ঠ ১ – বাপ্পাদা বলছে,জানোয়ার হয়ে যাইনি এখনও।
কণ্ঠ ২ – হ্যাঁ, ওই মতো করেই কর।

কণ্ঠ ১ – কী করব? মাথা ফাটানোটা ঠিক হবে?
কণ্ঠ ২ – দেখ, খানিকটা যদি কিছু করা যায়। খানিকটা হলেও ওই ব্যাপারটা থাকবে, যে ওরাই এটা করাল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন