অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড হওয়ার পর এবার অভিযোগ আরও গুরুতর। যৌন হেনস্থার অভিযোগে এবার পরিচালক অরিন্দম শীলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। অভিনেতা পরিচালক অরিন্দম শীলের বিরুদ্ধে বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে৷ পরিচালকের বিরুদ্ধে ৩৫৪ ও ৫০৪ ধারায় একটি মামলা রুজু হয়েছে বলে খবর। এই ঘটনার পর এই প্রথম মুখ খুললেন অভিজগকারিনী অভিনেত্রী। অপর দিকে তার জবাব দিলেন অরিন্দম শীল।
এক বাংলা প্রথম শ্রেণীর বাংলা দৈনিকে ওই অভিনেত্রী জানান, “সে দিন ফ্লোরে একটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্য বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন পরিচালক। সেই অজুহাতে তাঁকে নিজের কোলে বসান, তার পর চুম্বন করেন গালে”। এই অভিযোগের পর পরিচালক অভিযুক্ত অরিন্দাম শীল আত্মপক্ষ সমর্থক করে জানান, “সে দিনের ঘটনার একাধিক সাক্ষী রয়েছেন। তিনি অভিনেত্রীর সঙ্গে ইচ্ছাকৃত ভাবে কিছুই করেননি। দৃশ্য বোঝাতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃত ভাবে স্পর্শ হয়ে যায়”।
এরপর ওই অভিনেত্রী বলেন, “যে দৃশ্যের কথা উনি বলছেন, সেই দৃশ্য থেকেই চুম্বন বাদ হয়ে যায়। সুতরাং দৃশ্য বোঝাতে গিয়ে চুম্বনের কী প্রয়োজন, সেটাই বুঝতে পারিনি। আর যতই পরিচালক আবেগতাড়িত হয়ে দৃশ্য বোঝানোর চেষ্টা করুন না কেন, তাঁর ঠোঁট কোনও অভিনেত্রীর গাল স্পর্শ করতে পারে না। পরিচালক বার বার বলছেন, যা হয়েছে অনিচ্ছাকৃত ভাবে হয়েছে। আমার প্রশ্ন অনিচ্ছাকৃত ভাবে কোনও মানুষ কি কাউকে চুম্বন করতে পারেন”?
তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, এই ঘটনার পরও অভিনেত্রী কেন শুটিং চালিয়ে গিয়েছিলেন সে দিন, কেন ওই মুহূর্তেই বলেননি অসুবিধা হচ্ছে বা প্রতিবাদ কেন করেননি সেই দিনই? উত্তরে তিনি জানান, “আমি সে দিন কোনও তামাশা করিনি, চিৎকার করিনি। তাই শুটিং ফ্লোরের কোনও কোনও সদস্য মানতে চাইছেন না, ‘অপমানজনক’ কোনও ঘটনা আদৌ ঘটেছিল। এমনকি, ফ্লোরে উপস্থিত অনেকের কোনও ধরনের অস্বস্তিকর কিছু ঘটেছে বলেও মনে হয়নি। ভদ্রতা দেখিয়ে শুটিংটা শেষ করেছিলাম, তাই সকলের মনে হয়েছিল এটাই স্বভাবিক। তাঁদের মানসিকতা নিয়েও আমার প্রশ্ন রয়েছে”।
এই ঘটনা নিয়ে ওই সংবাদ মাধ্যমকে পরিচালক অরিন্দম শীল জানান, “আইনের উপর আমার আস্থা রয়েছে। আইনি পথেই যা করার করব”। তিনি আরও বলেন, “আমি আমার বিবেকের কাছে একশো শতাংশ স্বচ্ছ। আইনের প্রতিও আমার আস্থা রয়েছে”। অভিনেত্রীর দাবি ছিল, শুটিং ফ্লোরে শট বোঝানোর অছিলায় তাঁকে চুম্বন করেন আপনি? তার উত্তরে পরিচালক বলেন, “ আমি সকলের সামনে ফ্লোরে শট বোঝাচ্ছিলাম। আমি তো পাগল নই যে ফ্লোরে এ রকম কোনও অনৈতিক কাজ করব। সবটাই ঘটেছে অনিচ্ছাকৃত ভাবে। চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে একটি মুহূর্তে ওঁর গালে আমার ঠোঁট ছুঁয়ে যায়। অস্বস্তি হলে তিনি তখনই সেটা জানাতে পারতেন।“
নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে অভিনেতা ও পরিচালক বলেন, “ এই ঘটনা নিয়ে আমি খুব চিন্তিত। আসল ঘটনা না জেনেই সোশ্যাল মিডিয়াতে কুৎসা করা হচ্ছে। আমি ছবি এবং ওটিটি মিলিয়ে ২২টা কাজ করে ফেলেছি। আমার সঙ্গে যে অভিনেত্রীরা কাজ করেছেন তাঁরা কেউই অস্বস্তি অনুভব করেছেন বলে মনে হয় না, আমার বিশ্বাস তাঁরা সেটাই বলবেন। শুটিংয়ের সময়টুকুর বাইরে আমি ফ্লোরে থাকিই না, বেরিয়ে আসি। বাইরেও কোনও অভিনেত্রীর সঙ্গে দেখা করি না”।



