নজরবন্দি ব্যুরোঃ একদিনে আয় ২ লক্ষ কোটি টাকা, বেজসের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন মাস্ক। ‘স্পেসএক্স’ , ‘টেসলা’ ও ‘ভার্জিন’ তিন আন্তর্জাতিক সংস্থার মালিক এলন মাস্ক গতকাল একদিনে আয় করেন প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা। মঙ্গলবার টেসলা ইনকর্পোরেটেডের শেয়ারের দাম এক লাফে বেড়েছে ২০ শতাংশ। এক বছরের মধ্যে ওই সংস্থার শেয়ারের দাম এত বাড়েনি। এর ফলে টেসলার প্রতিষ্ঠাতা মাস্কের সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়াল প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। অর্থাত্ সাড়ে ১২ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। এর ফলে তিনি এখন বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি অ্যামাজনের মালিক জেফ বেজসের ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছেন।
আরও পড়ুনঃ হাসপাতালের বেডে দলের সুপ্রিমো, আজ প্রকাশ পাচ্ছে না TMC’র ইস্তেহার।
এদিকে তিন সপ্তাহ ধরে নাসডাক হানড্রেড শেয়ার সূচকের পতন হয়েছে ১১ শতাংশ। কিন্তু মঙ্গলবার জেফ বেজোসের অ্যামাজন ডট কম ইনকর্পোরেটেড এবং চিনা সংস্থা পিনডুওডুও-র শেয়ারের দর বৃদ্ধি পায়। ফলে ফের উর্ধ্বমুখী হয় শেয়ার সূচক। গত কয়েক মাস ধরে বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি হওয়ার জন্য বেজোসের সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছেন মাস্ক। জানুয়ারিতে ব্লুমবার্গ ওয়েলথ ইনডেক্স অনুযায়ী ধনীতম ব্যক্তি হয়েছিলেন মাস্ক। পরে বেজস ফের ধনীতম ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। এদিকে কিছুদিন আগেই ব্যাঙ্গালোরে নিজের ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল কোম্পানি টেসলার রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন তিনি। চলতি বছরের মাঝামাঝি টেসলার ওই সংস্থা কাজ শুরু করবে। একটি সূত্রে খবর, প্রথমে বিদেশ থেকে মডেল থ্রি সেডান গাড়ি আমদানি করবে টেসলা। সেই গাড়ি বিক্রি করা হবে ভারতে। কিছুদিন আগেই সাংবাদিক সম্মেলনে পরিবহনমন্ত্রী নিতিন গড়কড়ি জানান টেসলা বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ এনে ভারতে অ্যাসেম্বেল করতে চায়।
তবে তার বদলে ওই সংস্থা যদি এদেশেই গাড়ি উত্পাদন করে, আমরা তাদের অনেক সুবিধা দিতে পারব। পরে গড়করি বলেন, আমরা নিশ্চিত করব যাতে ভারতে টেসলার গাড়ি বানাতে খরচ সবচেয়ে কম হয়। এমনকি চিনের চেয়েও কম দামে টেসলা এদেশে গাড়ি বানাতে পারবে। তারা এদেশে একবার গাড়ি বানানো শুরু করলেই সরকার এই ব্যাপারটি নিশ্চিত করবে। বেশ কিছুদিন ধরে ভারত সরকার চেষ্টা করছে যাতে এদেশে বৈদ্যুতিক গাড়ি উত্পাদন করা যায়।
ভারতের শহরগুলিতে দূষণের মাত্রা কমানোর জন্যই বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু টেসলা এদেশে গাড়ি বানাবে কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয়। টেসলা ভারতে বিনিয়োগের ব্যাপারে কী ভাবছে জানার জন্য তাদের ই-মেল করা হয়েছিল। এখনও সেই মেলের জবাব আসেনি। ভারতে এখনও পর্যন্ত বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা কম। গতবছর দেশে মোট ২৪ লক্ষ গাড়ি বিক্রি হয়। তার মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ির সংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচ হাজার। এদেশে সব জায়গায় গাড়ির ব্যাটারিতে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া ব্যাটারির দামও যথেষ্ট বেশি। তাই ইলেকট্রিক ভেহিকল নিয়ে ক্রেতারা বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। সেই তুলনায় চিনে বিকল্প শক্তিতে চলা গাড়ির বিক্রি যথেষ্ট বেশি।
একদিনে আয় ২ লক্ষ কোটি টাকা, বেজসের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন মাস্ক। ২০২০ সালে চিনে সাড়ে ১২ লক্ষ বিকল্প শক্তিচালিত গাড়ি বিক্রি করেছে টেসলা। তার মধ্যে বিদ্যুত্চালিত গাড়িও আছে। টেসলা বছরে যত গাড়ি বিক্রি করে, তার এক তৃতীয়াংশ কেনে চিনারা।



