নজরবন্দি ব্যুরো: হাসপাতালের বেডে দলের সুপ্রিমো, নির্বাচনী প্রচার নয়, এখনো SSKM এর সাড়ে ১২নং বেডে শুয়ে আছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পায়ের পাতার চিড়, কোমরের আঘাত নিয়ে আগামী ৭২ঘণ্টা থাকতে হবে সেখানেই। কিছুদিনের বিশ্রাম নিতে হতে পারে নির্বাচনী প্রচার থেকেও। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নিজেদের মতো করে আন্দোলন করছেন তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা।
আরও পড়ুনঃ হামলর পর দিন সকাল থেকে উত্তাপ ছড়াল নন্দীগ্রামে! হাতাহাতি তৃণমূল, বিজেপি-র
মন ভালো নেই কারো, কেউ রাগে ত কেউ ক্ষোভ ফেটে পড়ছেন। এই অবস্থায় আজ আর প্রকাশিত হচ্ছেনা তৃণমূল কংগ্রেসের ইস্তেহার। মুখ্যমন্ত্রী নন্দীগ্রামে গিয়েই জানিয়েছিলেন সেখানে পুজো দিয়ে ফিরবেন কলকাতায়, আর শহরে ফিরেই প্রকাশ করবেন দলের ইস্তেহার। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। গতকাল নন্দীগ্রামের বিরুলিয়ায় গাড়িতে ওঠার সময় ৪-৫ জন তাঁকে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ। সাহায্য পাননি স্থানীয় পুলিশেরও। নিরাপত্তারক্ষীরা সঙ্গে সঙ্গে গাড়িতে করে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কলকাতার উদ্যেশ্যে। রাস্তাতেই পা ফুলে যায়, জ্বর আসে, বুকে ব্যাথা, সব নিয়ে শহরে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী।
SSKM এর উডবার্ণের সাড়ে ১২নং কেবিনে রাখা হয়। সেখান থেকে রাতে বাঙ্গুরে নিয়ে যাওয়া হয় MRI এর জন্য। আবার ফিরে আসেন SSKM এই। আপাতত থাকতে হবে ৭২ ঘণ্টা। এই পরিস্থিতিতে আজ প্রকাশ পাচ্ছে না দলের ইস্তেহার। সূত্রের খবর এবারের ইস্তেহারে তৃণমূলের অস্ত্র উন্নয়ন। গত এক দশকে কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, সবুজসাথীর মতো যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করে ব্যাপক সাড়া পেয়েছিল রাজ্যে তার কথা এবং ভবিষ্যতেও কী কী চালু রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে দলের তরফ থেকে তার বিস্তারিত তালিকা থাকবে তাতে।
তাছাড়া দুয়ারে সরকার প্রকল্প এবং স্বাস্থ্য সাথী যার মাধ্যমে বিরোধী পক্ষও একাধিক বার প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রীর সেসবের কথাও থাকবে। আগামী বছর থেকে বছরে দুবার দুয়ারে সরকার প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের সকলের ঘরে ঘরে পৌঁছতে চাইছে মমতার সরকার। এই ইস্তেহার তৈরির আগে শুধু রাজ্যের নেতা মন্ত্রী নয়, মতামত নেওয়া হয়েছে রাজ্যের একাধিক বিশিষ্ট মানুষ এবং সাধারণ স্তরের জনগণের থেকে।
হাসপাতালের বেডে দলের সুপ্রিমো, গত এক দশকে মমতার সরকারের প্রকল্প গুলি মানুষের উপকারে কিভাবে লেগেছে এবং সবথেকে বেশি উপকার পেয়েছে কোন প্রকল্পে সে বিষয়েও মতামত নিয়েছে দল। এই মুহূর্তে বাংলায় বিরোধী দল হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি। রাজ্যের প্রতিটি ঘটনায় বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের মতবিরোধ ঘটে থাকার সাক্ষী রাজ্যবাসী। কিন্তু তৃতীয় বার ক্ষমতায় একে বিজেপিকে আক্রমণ করে নিজেদের লক্ষ্য থেকে সরে যেতে চাইছেন তৃণমূল। মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন তৃণমূলের বরাবরের মূল লক্ষ্য উন্নয়ন।
গত ১০ বছরে যা উন্নয়ন হয়েছে তৃতীয় বার ক্ষমতায় ফিরে তার থেকেও বেশি উন্নয়ন করবে সরকার। তাই বিজেপিকে হিংসা বা আক্রমণ করে সময় নষ্ট করতে চায়না দল। শুধু মাত্র উন্নয়নকে হাতিয়ার করেই তৃতীয় বার ক্ষমতায় ফিরতে চাইছে মমতার সরকার। সে কথাই বলবে আগামী কাল প্রকাশিত তৃণমুল কংগ্রেসের ইস্তেহার। তবে কবে এই ইস্তেহার প্রকাশিত হবে সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি দলের তরফ থেকে।



