নজরবন্দি ব্যুরো: শিক্ষা, খাদ্য, পুর দুর্নীতির পর এবার কি স্বাস্থ্য ? এবার এই নিয়ে শুরু হল জল্পনা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থার খাতায় এবার উঠল আর জি করের নাম। বহুদিন ধরেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ এই দুর্নীতির পিছনে রয়েছেন আরজিকর এর অধ্যক্ষ। আদালতে যাওয়ারও হুমকি দিয়েছেন তিনি। বলেন “ এর আগে রাজ্যপাল কে চিঠি দিয়েছিলাম এবার ইডিকে চিঠি দিলাম । মামলাও করব ।“
আরও পড়ুন: শনিবার হঠাৎ বিমানবন্দরে হাজির Abhishek Banerjee, কোথায় গেলেন তৃণমূল সাংসদ?

আর জি করের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ কার ‘আশীর্বাদে’ স্বাস্থ্য দফতরে বিশেষ ক্ষমতা ভোগ করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুকান্ত মজুমদার । কারণ, পরপর দু’বার বদলির নির্দেশিকা বেরোনোর পরেও প্রথম বার কয়েক ঘণ্টার ও দ্বিতীয় বার কয়েক দিনের ব্যবধানে তা বাতিল হয়ে পুরনো জায়গাতেই ফিরেছেন সন্দীপ ঘোষ । কয়েক কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে তাঁকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হলেও কোন মন্তব্য করেননি তিনি ।তাঁর কথায়, ‘‘কেউ ঘেউ ঘেউ করলেই উত্তর দিতে হবে, এমন তো নয়। ভ্রান্ত-ভিত্তিহীন অভিযোগ নিয়ে এর বেশি কিছু বলব না।’’

জানা গেছে ঘনিষ্ঠ মহলে অধ্যক্ষ জানান , কাগজপত্র তার কাছেও আছে । কেঁচো খুঁড়তে কেউটে না বেরিয়ে পড়ে । এমনিতেই দুর্নীতি নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। নাক-কান-গলা বিভাগের প্রশিক্ষণে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নিয়ম ভেঙে ময়না তদন্তের জন্য আসা ছ’টি দেহ পাঠানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। চিকিৎসা বর্জ্যের পরিমাণ আর জি কর এবং এন আর এসে প্রায় এক হওয়া সত্ত্বেও ছ’মাসে দু’জায়গার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিমাণ দু’রকম কেন সেই প্রশ্নও উঠেছিল ।বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আর জি করের তদন্ত কমিটিও বিভিন্ন অনিয়মের উল্লেখ করেছিল। যারা অনৈতিক ভাবে আর জি করের চিকিৎসা বর্জ্য বাইরে বিক্রি করছে, তাদের সঙ্গে অধ্যক্ষের যোগসাজশেরও অভিযোগ উঠেছে।

এবার দুর্নীতির ঘেরাটোপে স্বাস্থ্য , অভিযোগ উঠল R.G.KAR এর বিরুদ্ধে
আবার স্কিল ল্যাবের পরিকাঠামো তৈরিতে রাজ্যের অন্য এক মেডিক্যাল কলেজে সাড়ে ৬১ লক্ষ টাকা খরচ হলেও আর জি করে সেই কাজে ২ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকার বরাত দেওয়া হয়েছিল। বেসরকারি হাসপাতালের থেকেও চড়া দামে হাই-ফ্লো নেজ়াল ক্যানুলার সার্কিট কেনার বরাত দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আবার হাসপাতাল চত্বরে খাবারের দোকানের বরাতে বিশেষ একটি সংস্থাকে প্রাধান্য দেওয়া-সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে আর জি করে। বলা হচ্ছে, সবেতেই সন্দীপ জড়িত। অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টর্সের সাধারণ সম্পাদক মানস গুমটা বলেন, ‘‘বহু বার আর জি করের বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রশাসনকে লিখিত জানিয়েও ফল হয়নি। তাই এমন পদক্ষেপকে স্বাগত জানাচ্ছি।’’ স্বাস্থ্য শিবিরের একাংশও তিতিবিরক্ত। তাঁদের কথায়, ‘‘যত কাণ্ড, সব কি আর জি করেই!’’



