নজরবন্দি ব্যুরো: রাজ্যে নিজেদের ক্ষমতার জল মাপতে প্রত্যেক দিন বিভিন্ন প্রান্তে সভা করছেন সব দলের রাজনৈতিক নেতারা। আর সেখান থেকে নিজেদের গ্রহণ যোগ্যতা তুলে ধরতে ভরা সভা মঞ্চে তুলোধোনা করছেন বিরোধী দলের নেতাদের। শুধু কটাক্ষ নয় রিতিমত অপবাদ দিচ্ছেন। যা রাজনীতির মার্জিন ছড়িয়ে চলে যাচ্ছে ব্যাক্তিগত স্তরে। আর আক্রমণ পাল্টা আক্রমনের তালিকা বাড়ছে প্রতিদিন। এই মুহূর্তে বাংলায় আসন্ন ২১ এর বিধানসভা নির্বাচন। আর নবান্ন দখলের এই লড়াইয়ে শুরু হয়েছে দলবদলে খেলা। তাতে আজ যে একদলের সতীর্থ কাল সে অন্যদলের।
আরও পড়ুনঃ ‘স্থলবন্দরে ভাঙচুরের ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত’ –জানালেন প্রকল্পের কর্ণধার সঞ্জয় মাওয়ার
প্রসঙ্গত ডিসেম্বর পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন তৃণমূলের প্রথম সারির নেতা। দলবদলের পর দিন থেকেই তিনি অনুভব করতে শুরু করেন তৃণমূলের সকল দোষ ত্রুটি। আর তার পর থেকেই প্রতিটা সভায় তৃণমুলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ প্রকাশ করতে থাকেন শুভেন্দু। অভিযোগ চলে যায় ব্যাক্তিগত আক্রমনের স্তরে। গত ১৯ সে জানুয়ারি শুভেন্দু অধিকারী ভোট পূর্ব সভা করেন খেজুরিতে। সেখান থেকে তিনি দুর্নীতির অভিযোগ এনে অভিষেককে তোলাবাজ বলে আক্রমণ করেছিলেন। শুধু তাই নয় ওইদিনই অধিকারীর ইন্টারভিউ ছিল এবিপি আনান্দের প্ল্যাটফর্মে। এবং সেখানেও তিনি তীব্র ভাসায় কটাক্ষ করেন অভিষেককে।তাঁর পরি গত ২১ জানুয়ারি অভিষেকের আইনজীবী আইনি নোটিস পাঠান অধিকারীকে।
আইনজীবী সঞ্জয় বসু শুভেন্দু অধিকারীকে যে নোটিস পাঠিয়েছেন তাতে স্পষ্ট ভাবে তিনি তাঁর মক্কেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে করা মিথ্যে এবং কুরুচিকর মন্তব্যের জন্য ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। সঞ্জয় বসু তাঁর নোটিশে ক্ষমা চাওয়ার কারণ হিসেবে স্পষ্ট ভাবে ৪ টি পয়েন্টও উল্লেখ করেছিলেন।
প্রথমত তাঁর মক্কেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘ তোলাবাজ’ বলে ভরা সভামঞ্চ থেকে বারবার অপমান করেছেন অধিকারী।
দ্বিতীয়ত, বাবুল সুপ্রিয়র মতো শুভেন্দু ও অভিষেক এর নামে একাধিক মিথ্যে অপবাদ দিচ্ছেন, যেমন , বলি,কয়লা,এমনকি কিডনি পাচারের মত জঘন্য কাজের সঙ্গে নাম জড়িয়ে বলছেন
তৃতীয়ত, একজন নেতা হয়ে কী করে তিনি বারবার অভিষেক কে রাজনীতির জগতে ‘ ব্যর্থ’ বলেন সেই কারণেও ক্ষমা চাইতে হবে অধিকারীকে।
এবং চতুর্থত জেলবন্দী কে ডি সিং-এর সাথে অভিষেকের যোগাযোগ আছে বলে দাবি করছেন শুভেন্দু।মিথ্যে এবং ভিত্তিহীন এসব মন্তব্যের জন্য শুভেন্দু অধিকারী কে ক্ষমা চাইতে হবে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে। কুলতলির সভা মঞ্চ থেকেও ভরা সভায় শুভেন্দু অধিকারীর নামে তোপ দাগেন অভিষেক।
পাল্টা নোটিস আসে শুভেন্দু অধিকারীর তরফ থেকে। সেখানে তিনি জানান, শুভেন্দুর আইনজীবী নোটিসে লিখেছেন, না জেনে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে মন্তব্য করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছে, এটা আদলত অবমানার সামিল।শুভেন্দুর আইনজীবী পাশাপাশি এও লিখেছেন নোটিসে যে, “জেলে বসে লেখা সুদীপ্ত সেনের চিঠি কীভাবে জনসভায় এলো?” পাশাপাশি পরিকল্পনা করেই ওই চিঠি লেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন শুভেন্দুর আইনজীবী৷ বিচারাধীন মামলার বিষয় নিয়ে অভিষেক মন্তব্য করেছেন বলেও শুভেন্দুর তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে৷ চিঠি পাওয়ার আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে যদি অভিষেক যদি নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা না চান, সেক্ষেত্রে দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে চিঠিতে৷ হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ঠিকানার পাশাপাশি দু’টি ই মেল মারফত আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে৷ এর পর ‘শিশু সুলভ’ আচরন ছেড়ে অভিষেক কে সাবধান করে দিতে ততখনাক চিঠি পাঠিয়েছিলেন অভিষেকের আইনজীবী।
আজ ফের একবার শুভেন্দু অধিকারীর নামে আইনি নোটিশ পাঠালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের আইনজীবী স্বাভাবিক ভাবেই বাংলায় অভিষেকের অবস্থান এবং এই মুহূর্তে সে একজন প্রতিষ্ঠিত এবং সম্মানীয় ব্যাক্তি মনে করিয়ে দিয়ে ফের একবার ২১ এ জানুয়ারির নোটিসের কথা মনে করিয়ে দেন। ভরা সভামঞ্চ থেকে অভিষেককে অপবাদ দেওয়ার জন্য যে ৩৬ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল ক্ষমা চাওয়ার জন্য তা প্রেক্ষিতে শুভেন্দু অধিকারীর যুক্তি শিশুসুলভ এবং যথেষ্ট নয় বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।



