নজরবন্দি ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চার শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে গতকাল। আদালতের নির্দেশেই জেল হেফাজত হয় ধৃতদের। টাকার বিনিময়ে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ তাঁদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা ইতিমধ্যেই শোরগোল সৃষ্টি করেছে। এরইমধ্যে আরও সাত জন শিক্ষককে তলব করল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই।
আরও পড়ুন: সৌরনীলের মর্মান্তিক মৃত্যুকাণ্ড গড়াল আদালতে, দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা
সিবিআই সূত্রে খবর, বাঁকুড়ার সাত শিক্ষককে নিজাম প্যালেসে তলব করা হয়েছে। তাঁদের কিছু নথি নিয়ে আসতেও বলা হয়েছে। আগামীকাল অর্থাৎ বুধবারই সাতজনকে সিবিআই দফতরে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত তথ্য জানতে তাঁদের জিজ্ঞসাবাদ করতে চায় তদন্তকারী আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে। এই সাত শিক্ষক ২০১৪ সালে টেট পাশ করে চাকরি পেয়েছিলেন। ৯ বছর পুরনো টেট নিয়েই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সাক্ষী হিসেবে তাঁদের নাম চার্জশিটে উল্লেখ করেছিল সিবিআই। বাঁকুড়ার এই সাত শিক্ষককে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড, মার্কশিট, কাস্ট সার্টিফিকেটের মতো কিছু নথি নিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

চাকরি বিক্রি নয়, টাকার বিনিময়ে চাকরি কেনাও যে অপরাধ এই বিষয়টি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। গতকালই এমন চারজন শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে যারা ‘ঘুষ’ দিয়ে চাকরি পেয়েছেন। জেলে যাওয়া চার অযোগ্য শিক্ষকের নাম— জাহিরউদ্দিন শেখ, সৌগত মণ্ডল, সায়গর হোসেন, সিমার হোসেন। চার্জশিটে সিবিআইয়ের দাবি, তাপস বিভিন্ন এজেন্ট মারফত এবং ব্যক্তিগত ভাবেও চাকরিপ্রার্থীদের থেকে স্কুলের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কয়েক কোটি টাকা তুলেছিলেন। তাঁদের মধ্যেই চারজনকে সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে।

সিবিআইয়ের চার্জশিটের তথ্য অনুযায়ী, ধৃতদের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়ী তাপস মণ্ডলকে সবচেয়ে বেশি টাকা দিয়েছিলেন সায়গর। আট জন এজেন্ট মারফত ১৩৬ জন চাকরিপ্রার্থীর থেকে মোট ৩ কোটি ৮৯ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা তুলেছিলেন তাপস। নিজে পাঁচ চাকরিপ্রার্থীর থেকে নিয়েছিলেন ২৩ লক্ষ টাকা। এই প্রার্থীদের চাকরি পাকা করার জন্য সব মিলিয়ে, ৪ কোটি ১২ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা তুললেও কুন্তলকে ৫.২৩ কোটি টাকা দিয়েছিলেন তাপস।
চার শিক্ষকের গ্রেফতারির পর আরও ৭ জনকে তলব করল CBI




